News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

যেভাবে বাজিমাত করলেন আল আমিন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম যেভাবে বাজিমাত করলেন আল আমিন

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে চারটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। একটিতে রীতিমত বাঘা বাঘা প্রার্থীদের হারিয়ে জয় পেয়েছেন এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। এত অল্প বয়সে এবং অল্প টাকা খরচ করে কিভাবে এমপি হলেন সেটাই এখন প্রশ্ন। সেই সাথে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, প্রার্থী যদি সৎ হয় এবং ভোটের পরিবেশ যদি সুষ্ঠু হয়, তাহলে এমন ফলাফলই স্বাভাবিক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠন হয় জাতীয় নাগরিক কমিটি। সেই নাগরিক কমিটির প্রথম যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন আবদুল্লাহ আল আমিন। এরপরেই তিনি নারায়ণগঞ্জ এসে নাগরিক কমিটি গঠনে হাত দেন। সংগঠনকে দাঁড় করান নিজ হাতে। পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন হলে সেখানেও তিনি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান। নারায়ণগঞ্জেও জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী তিনি।

আবদুল্লাহ আল আমিন পেশায় একজন আইনজীবী। আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। সদা হাসিমুখ এবং বিনয়ী আচরণ তাকে জনপ্রিয় করে তোলে সবার কাছে। নতুন সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে অল্পদিনেই নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন সহ পুরো নারায়ণগঞ্জে নিজের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। বিশেষত ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে এনসিপির শক্ত অবস্থান দাঁড় করান। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পাড়া মহল্লায় হেটে নিজেকে পরিচিত করানোর কাজ শুরু করেন।

তফসিল ঘোষণার পর কোমড় বেধে নামেন নির্বাচনের মাঠে। একদিকে তার আর্থিক সংকট, অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের সংগঠিত করার শক্তি। দুটি মাথায় রেখেই পায়ে হেটে শুরু করেন নির্বাচনী প্রচারণার যাত্রা। যার নাম দেন ‘পরিবর্তনের যাত্রা’। সাতটি ইউনিয়নের সবগুলোতে হাটা শুরু করেন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে। প্রচার প্রচারণায় সবচেয়ে বেশী মাঠে ছিলেন আল আমিন।

অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতেই দেখা যায় টাকার সাথে আল আমিনের পার্থক্য। মনির কাসেমী, শাহ আলম, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলীর ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো নির্বাচনী এলাকা। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল আমিনের ব্যানার দেখা যাচ্ছিলো গুটি কয়েক। ফেস্টুন ছিলো না বললেই চলে। সারা নির্বাচনী এলাকায় হরিন, খেজুর গাছ, ফুটবল, হাতি মার্কার পক্ষে মাইকিং চলতো। কিন্তু শাপলা কলি প্রতিকের পক্ষে কোন মাইকিংই শোনা যেত না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচনে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন আল আমিন। নির্বাচন করতে নেমে আর্থিক সংকটে পড়ায় সেভাবে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছিলেন না। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষরা ছিলো সম্পদশালী। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিক্রমী প্রচারণায় এগিয়ে ছিলেন আল আমিন। বিশেষত তরুণেরা তাকে পছন্দ করতে শুরু করে তার কর্মকান্ড ও সরলতার কারনে।

আর্থিক সংকট নিরসনে ক্রাউন্ড ফান্ডিং বা গণতহবিলের আবেদন জানান ভোটারদের কাছে। এনিয়েও অনেকে কটাক্ষ করেছিলেন তাকে। আর্থিকভাবে সম্পদশালী না হওয়ায় মানুষের কাছে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। যা তার ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশী মানুষের কাছে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আল আমিন। যা তাকে এবার বিজয়ের পথ সহজ করেছে।

সূত্র বলছে, আবদুল্লাহ আল আমিন জেন জি ভোটকে টার্গেট করতে পেরেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ডকুমেন্টারি, নিজস্ব নির্বাচনী গান, ছবি, ভিডিও, জরিপ, বক্তব্য, কর্মসূচী সবকিছুই প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া তার ইশতেহারও নজর কেড়েছে ভোটারদের। সাবেক এমপিদের ব্যর্থতা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর দীর্ঘদিন যোগাযোগ না রাখা এবং বিতর্কিতদের পাশে বসিয়ে নির্বাচন করতে চাওয়াই সহজ করেছে আল আমিনের বিজয়ের পথ। এছাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুষ্পষ্ট বার্তা মানুষ মনে ধারন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবদুল্লাহ আল আমিন চমক দেখিয়েছেন নির্বাচনে। এনসিপির ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে বহু আলোচিত প্রার্থী থাকলেও জাতীয় রাজনীতিতে পেছনে ছিলেন আল আমিন। কারন তিনি মিডিয়ায় ফোকাস হবার চাইতে রুট লেভেলে সংগঠন গুছিয়েছেন। যা তাকে বিজয়ী করে দিয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ব্যাপক আলোচনায় কাসেমী, শাহ আলম, গিয়াস, মোহাম্মদ আলী থাকলেও আলোচনায় পেছনে ছিলেন আল আমিন। সেই সুযোগে তিনি ভোটের মাঠে চষে বেড়িয়েছেন। আলোচনার বাইরে থেকে নিজের জয় নিশ্চিত করে বেরিয়ে এসেছেন।