News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

ক্ষমতার পালাবদলে নিস্তব্ধ দাপুটে মুখগুলো


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম ক্ষমতার পালাবদলে নিস্তব্ধ দাপুটে মুখগুলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক নতুন বাস্তবতা। সেই পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেও। একসময় যেসব নেতার উপস্থিতিতে সরগরম থাকত রাজনৈতিক অঙ্গন, আজ তাদের অনেকেই নীরব কেউ আড়ালে, কেউ আত্মগোপনে, আবার কেউবা সম্পূর্ণ অদৃশ্য। ফলে জেলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক ধরনের শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা।

গণঅভ্যুথানের আগে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের প্রভাব ছিল অত্যন্ত দৃশ্যমান। দলীয় কর্মসূচি, প্রশাসনিক সমন্বয় কিংবা স্থানীয় নানা ইস্যুতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। তাদের বক্তব্য, অবস্থান ও নির্দেশনাকে কেন্দ্র করেই অনেক সময় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারিত হতো। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই দৃশ্যপট যেন হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে।

জেলার পাঁচটি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অর্থাৎ গোলাম দস্তগীর গাজী, নজরুল ইসলাম বাবু, আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের মধ্যে একজন কারাগারে রয়েছেন, কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে নেই, আর একজন মাসখানেক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমিতভাবে উপস্থিত হয়েছেন। ফলে একসময় প্রভাবশালী এই নেতৃত্ব এখন কার্যত নীরব অবস্থানে চলে গেছেন। তাদের এই অনুপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক আলোচনাতেই নয়, সংগঠন পরিচালনাতেও স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে অনেক শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। কেউ দেশ ছেড়েছেন, কেউ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গুঞ্জন, অনিশ্চয়তা ও জল্পনা সব মিলিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। অনেকেই মামলার চাপ, গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কেউ এলাকা ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান করছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন ঘটনার দায়ভার এখন মূলত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপরই এসে পড়েছে, অথচ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন আড়ালে।

এই পরিস্থিতিতে দলীয় কাঠামোও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নেতৃত্বের দীর্ঘ নীরবতা ও অনুপস্থিতি সংগঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বা শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়লে দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

একসময় নারায়ণগঞ্জে যাদের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত, সেই দাপুটে মুখগুলোর আজকের এই নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তারা কি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন, নাকি এই নীরবতাই দীর্ঘস্থায়ী হবে এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।