News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিএনপি সেক্রেটারীর ক্ষোভ, এমপির জবাব


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম বিএনপি সেক্রেটারীর ক্ষোভ, এমপির জবাব

নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরী অঞ্চলে ঝুট সন্ত্রাসের বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া। সেই সাথে উল্টো এমপিকেই দোষারোপ করেছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেন তিনি। বারী ভূইয়া লিখেন, জনাব এমপি সাহেব ঝুট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেন, নিজেই গার্মেন্ট মালিকদের ঝুট ব্যবসার জন্য তদবির করেন। দ্বিচারিতা হয়ে গেল না! ফতুল্লা থানার ওসিকে দিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা করাবেন, কি চমৎকার! ধন্যবাদ।

তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তবে কি এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন গোপনে ঝুট ব্যবসার জন্য গার্মেন্ট মালিকদের কাছে তদবির করেছেন? আবার এনসিপির নেতাকর্মীরা তার এই বক্তব্যের বিপরীতে প্রমান দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়েন।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা স্পষ্ট। বিএনপির লোকজনের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় তাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। যেমন ফুটপাতের হকারের থেকে চাঁদাবাজি, পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি, বিসিকে ঝুট সন্ত্রাস, বারী ভুঁইয়ার নিজ এলাকায় তার ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজী, ঝুট নিয়ে বিরোধী গোলাগুলি, বিএনপির লোকজনের দ্বারা আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করায় আমাদের নেতাকর্মীরা এসবের প্রতিবাদ জানিয়েছে। জবাবে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে।’

মামলার বিষয়ে বলেন, কিছুদিন আগে বারী ভূইয়ার ছত্রছায়ায় ৭ নাম্বার ওয়ার্ডে কয়েকজন চাঁদাবাজি করছিলো। ছাত্রশক্তির ছেলেরা এর বাঁধা দেয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে। সেই ঘটনায় মামলা দায়ের করায় বারী ভুঁইয়ার আঁতে ঘা লেগেছে। এজন্য সে মিথ্যাচার করছে। আমরা প্রকাশ্যেই বলে আসছি আমাদের কোন নেতাকর্মীর সাথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির সম্পৃক্ততা নেই। কোন ধরনের ঝুট সন্ত্রাস বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোড় জবরদস্তিমূলক আচরণের নজির আমাদের নেতাকর্মীদের নেই। যদি কারও বিরুদ্ধে স্পেসিফিক অভিযোগ থাকে এবং প্রমান থাকে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। যদিও আজ পর্যন্ত সেই প্রমান কেউ দিতে পারেনি।

তদবিরের প্রশ্নে বলেন, আমার দ্বারা কারও কাছে তদবিরের তো প্রশ্নই আসে না। তারা নিজেরাই এই কাজ করে, তারা নিজেরা ঝুট সন্ত্রাস করে, নিজেরা গোলাগুলি করে, ব্যবসায়ীদের হুমকি ধামকি দিয়ে চাঁদাবাজি করে, ফুটপাতের হকারদের থেকে চাঁদাবাজি করে। এনসিপির নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানানোর কারনে তাদের এখন গায়ে লাগছে। তারা ঠিকভাবে অপকর্ম করতে পারছে না দেখে পাগলের মত আবোল তাবোল বলা শুরু করেছে। এই ধরণের কথার প্রতিউত্তর আর কি দিব?

এনসিপির দিকে অভিযোগ তোলার আগে নিজেদেরকে আয়নায় দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, কোন ধরণের অন্যায় বা এই ধরণের কাজের সাথে আমার ও আমার নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নেই। উনি পারলে স্পেসিফিক ভাবে বলুক কোথায় এনসিপির পরিচয়ে তদবির হয়েছে? যদিও উনাদের কর্মকান্ডের বিষয়ে নতুন করে প্রমানের প্রয়োজন পরে না। তাদের লোকজন বিসিকে প্রভাব বিস্তার করছে। নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে। এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত পত্র পত্রিকায় আসছে। এসব কাল্পনীক অভিযোগ করার আগে তাদের উচিৎ আয়নায় নিজেদের দেখা।’

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ একাধিক আসামীকে গ্রেপ্তার করে। যাদের মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীও রয়েছে।

এসব ঘটনার জের ধরেই রোববার সংসদে শিল্প মন্ত্রীর কাছে বিসিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান ‘বিসিক এলাকায় ঝুট সস্ত্রাস ও মালিক শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোন চিন্তা ভাবনা আছে কিনা? কারন এই অঞ্চলে প্রায়ই ঝুট সন্ত্রাসীদের আনাগোনা দেখা যায় এবং মালিক শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।’ তার এই প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী স্পেসিফিক ঘটনা জানানোর অনুরোধ করেন। সেই সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।