নারায়ণগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা হচ্ছে শহরের দেওভোগ এলাকার জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা| শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় সারাদেশজুড়েই এই মাদ্রাসার বেশ সুনাম রয়েছে| আর তাই এই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে জায়গা করে নেয়া কিংবা মাদ্রাসার কর্তৃত্ব নেয়া অনেক গুরুত্ব বহন করে| ফলে এই মাদ্রাসায় লঙ্কাকান্ডের ঘটনায় বিএনপির নেতাদেরই উস্কানি রয়েছে| এমনটাই অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয়রা|
বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসার প্রতিযোগিতা শুরু হয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে| তারই ধারাবাহিকতায় শহরের দেওভোগ এলাকার জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার কমিটিতে নজর দেন বিএনপি নেতারা| কিন্তু সাধারণত দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলো ধর্মীয়প্রাণ মুসল্লিদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে| এখানে সরকার দলীয় কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হয় না|
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার কমিটিতে বিএনপি নেতারা প্রবেশ করতে চাইলে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা তৎকালীন জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হন| সেই সাথে তৎকালিন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করেন মাদ্রাসার কমিটির দিকে নজর না দেয়ার জন্য| একই সাথে এই কওমী মাদ্রাসাকে নিজেদের মতো করেই পরিচালনা করতে সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান করেন| এতদিন সেভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছিলো|
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে| আর এই ক্ষমতায় আসার পরপরই আবারও জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার কমিটিতে বিএনপি নেতাদের নজরে পরে| কিন্তু তাদেরকে সুযোগ দেয়া হচ্ছিলো না|
এরই মধ্যে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে করেকদিন ধরেই নানা আলাপ আলোচনা চলে আসছিলো| সেই সাথে হারুন অর রশিদ সুযোগ নেয়ার জন্য ইসলামী ছাত্র শিবিরের কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে আসছিলো| জামায়াত শিবিরকে টেনে এনে নিজের পরিস্থিতি নিজের দিকে মোড় নেয়ার চেষ্টা করে আসছিলো|
সবশেষ গত রোববার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়| মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবু তাহের জিহাদী, ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকন সহ কয়েকজনকে মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে|
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আব্দুল হালিম বলেন, মুফতি হারুন অর রশিদকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তার অনুসারীরা শিক্ষার্থীদের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে| একপর্যায়ে প্রিন্সিপাল, সাধারণ সম্পাদক সহ ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যকে মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়| এসময় মাদ্রাসার ভেতর থেকে বলা হচ্ছিলো জামায়াত তাদের উপড় হামলা করেছে|
আর এই পরিস্থিতির পুরোপুরি সুযোগ নেন বিএনপি নেতারা| জাকির খানের গাড়িতে চড়ে আসতে দেখা যায় বহুল বিতর্কিত হেফাজত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে| একই সাথে ঘটনাস্থলে যান হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী মনির হোসেন কাসেমী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বিএনপি নেতা দিদার খন্দকার সহ আরো অনেকে|
এসময় জাকির খান উপস্থিতির উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন| সবশেষ আলোচনয় প্রাথমিকভাবে তিন দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য হয়| সেই সাথে এ বিষেয়ে মহানগর বিএনপির নেতা জাকির খান সমš^য়কের দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে জানা যায়|
স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনায় পিছনে বিএনপি নেতাদের উস্কানি রয়েছে| এটা কোনো রাজনৈতিক সমস্যা ছিলো না; যে রাজনৈতিক নেতাদের এসে সমস্যার সমাধান করতে হবে| এটা মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিলো| এখানের সমস্যার সমাধান করতে হলে যারা আলে উলামা আছেন তারা এসে সমস্যার সমাধান করবেন| এটাই বিভিন্ন সময় হয়ে থাকে| যারা বড় হুজুর আছেন মুরুব্বী আছেন তারাই ছাত্রদের বুঝিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করে থাকেন|
কিন্তু জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার বেলায় উল্টা ঘটনা ঘটলো| এখানে এসে সমাধান দিতে হলো একজন রাজনৈতিক নেতাদের| এই ঘটনার সাথে বহিরাগতের সম্পৃক্ততা ছিলো| ছাত্ররা সাধারণত হুজুরের বাইরে কোনো কথা শুনতে চান না| কিন্তু এখানে বিএনপি নেতাদের কথা শুনেছে ছাত্ররা| যা বিগত সময়ে কখনও দেখা যায়নি| মাদ্রাসায় কর্তৃত্ব নেয়ার জন্যই বিএনপির নেতারা এখানে উস্কানি দিয়েছেন|





































আপনার মতামত লিখুন :