News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলছে ভারী যানবাহন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বন্দর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলছে ভারী যানবাহন

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের শ্রীরামপুর খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন হাজারো মানুষের জন্য চরম 'মরণফাঁদে' পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুটির ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন। ফলে যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে খালের পানিতে তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে সেতুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও এটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিকল্প কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই প্রতিদিন কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ বুক ধড়ফড়ানি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বহু বছর আগে নির্মিত এই সেতুটির আয়ু ফুরিয়েছে অনেক আগেই। বেশ কিছুদিন আগে সেতুটির মাঝখানের ঢালাই ও পলেস্তারা খসে খালের পানিতে পড়ে গিয়ে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সেই গর্তটি একটি স্টিলের পাত (প্লেট) দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যার ওপর দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় পুরো সেতুটি কাঁপতে থাকে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের ধাক্কায় সেতুটির দুই পাশের অধিকাংশ রেলিং (হাতল) ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও সুরকি-সিমেন্ট খসে জং ধরা রড কঙ্কালের মতো বেরিয়ে এসেছে, আবার কোথাও রডের কোনো অস্তিত্বই নেই।

রহিম ও সিরাজ নামের দুই নিয়মিত যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সেতু দিয়ে যাতায়াত করছি। ব্রিজের মাঝখানের গর্ত স্টিলের প্লেট দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া। ওপর দিয়ে গাড়ি গেলেই বিকট শব্দ হয়। যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, এখানে যেন দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর আগে এই সেতুটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। খালের ওপর সাময়িক চলাচলের জন্য একটি বিকল্প সড়ক (ডাইভারশন রোড) তৈরির কাজ আংশিক শুরুও হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করেই সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

যোগাযোগ করা হলে বন্দর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ মিঞা জানান, আমরা এই সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি জানি। মূলত ডাইভারশন রোড নির্মাণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পূর্বের ঠিকাদার কাজটি করতে অপারগতা প্রকাশ করেন, যার ফলে নির্মাণ কাজটি আটকে যায়। তবে আমরা ইতিমধ্যে নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও চালকদের দাবি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে, কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন জরুরি ভিত্তিতে এখানে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।