News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

এমপির উপস্থিতিতে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বের অবসান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১০:২১ পিএম এমপির উপস্থিতিতে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বের অবসান

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের উপস্থিতিতে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে তার কার্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মধ্যে দিয়ে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো হয়।

বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদ, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারী জামাল হোসাইন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম রাজীব ও মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান সহ অন্যান্য নেতারা।

বৈঠক শেষে ছাত্রদল নেতারা ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা একে অপরের সাথে বুক মিলিয়ে নেন। সেই সাথে তারা পরস্পরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সরকারি তোলারাম কলেজের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। একই সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরের সাথে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিবেন বলেন জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়। এটি আমাদের জন্য অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক ঘটনা ছিলো। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করি। এই ঘটনায় যারা আহত হয়েছে আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সাহেব আমাদের সকলকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেভাবে নারায়ণগঞ্জকে স্থিতিশীল রাখতে পারি ঐতিহ্যবাহী তোলারাম কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা যায় সেজন্য আমরা ঐক্যমত পোষণ করেছি। আগামী দিনে সকলেই যার যার অবস্থান থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করবে। ছাত্রবাসকেন্দ্রিক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে সাধারণ ছাত্রদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়টি দেখবেন। নারায়ণগঞ্জকে শান্ত রাখার জন্য সকলেই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি এবং জামায়াতের ইসলামী মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল এবং ছাতশিবিরের মতপার্থক্যের কারণে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে আমরা সেটার পুনরাবৃত্তি চাই না। নিজেদের মধ্যে রক্তপাত চাই না। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হোক এটা চাই না। আগামী দিনে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে কাজ করবে। তাদের মধ্যে যেন আর ভুল বোঝাঝুঝি না হয়।

তিনি আরও বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমরা আলাপ আলোচনা করে পুষিয়ে নিবো। আমি আশা করবো মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু নিজেদের মধ্যে কোনো সহিংস কিংবা প্রতিহিংসামূলক ঘটনা না ঘটে। আমরা চাই সবাই যার যার অবস্থান থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এটা নিয়ে আমরা কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাবো না।

আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, গত ৫ আগস্ট যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। সেখানে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব না থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সকলে একসাথে বসে মান অভিমানের বিষয়টি সমাধান করেছেন। এটার একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান হয়েছে। আমরা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

অমিত হাসান বলেন, ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছিলো এটার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। সেই সাথে ছাত্রাবাসের সমস্যার সমাধান হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি আমাদের মধ্যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা আর ঘটবে না।

দীর্ঘ প্রায় ১ যুগ ধরেই নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলো। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ছিলেন। সেই সাথে তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।

কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের মধ্যে ছন্দপতন ঘটে। ধীরে ধীরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিরোধ দানা বাঁধতে থাকে। সেই সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে বিরোধ আরও বেশি স্পষ্ট হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের সেই বিরোধ গিয়ে সংঘাতে রূপ নেয়। যেন তারা একে অপরের চির শত্রুতে পরিণত হয়ে যান।

এরই মধ্যে গত ৫ আগস্ট দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ২০ জন কর্মী আহত হয়েছে।