News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

রাজপথে চার দশকে ত্যাগ-সংগ্রামে ডা. মুজিবুর রহমান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম রাজপথে চার দশকে ত্যাগ-সংগ্রামে ডা. মুজিবুর রহমান

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সক্রিয় থাকা চিকিৎসক নেতা ডা. মুজিবুর রহমান। চার দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা চাকরিচ্যুতি, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, একাধিক মামলা ও কারাবরণের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এসব প্রতিকূলতার কোনো কিছুই তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সক্রিয়তাকে থামাতে পারেনি।

‎ষাটোর্ধ্ব বয়সেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে তাঁর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অন্যতম সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পদ-পদবির চেয়ে ত্যাগ, প্রতিকূলতার মোকাবিলা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকাকেই নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ করে নিয়েছেন তিনি।

‎১৯৬৩ সালে চাঁদপুরের মতলবের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম ডা. মুজিবুর রহমানের। কৈশোরেই রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র থাকাকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ‘খাল খনন’ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

‎কিশোর বয়সে শহীদ জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্য ও দেশগঠনের কর্মসূচি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। দেশপ্রেম, মানুষের জন্য কাজ করা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার যে শিক্ষা তিনি তখন পেয়েছিলেন, পরবর্তী জীবনে সেটিই তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

‎১৯৭৯ সালে ঢাকা কলেজের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্রদলের গোড়াপত্তনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ডা. মুজিবুর রহমান। তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়।

‎তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রদলের রাজনীতি এগিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থেকে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করেন।

‎রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এনেস্থেসিয়ায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি।

‎রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ডা. মুজিবুর রহমানকে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে ও তাঁর চিকিৎসক স্ত্রীকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

‎২০১৭ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, ওই বরখাস্তের আদেশ ২০১৪ সালের ব্যাকডেট দিয়ে কার্যকর করা হয়েছিল।

‎এ সময় তাঁর চিকিৎসক ছেলেকেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনা তাঁর পরিবারের ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেললেও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াননি ডা. মুজিবুর রহমান।

‎রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়গুলোর মধ্যে ২০১০ সালের একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দীর্ঘদিনের শ্রমে গড়ে তোলা তাঁর হাসপাতাল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‎এরপর একের পর এক মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মামলার কারণে দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও একটি মামলায় প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানা যায়। কারামুক্তির পরও তিনি আবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসেন।

‎রাজনীতির পাশাপাশি চিকিৎসক সমাজেও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ডা. মুজিবুর রহমান। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে সংগঠনটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন তিনি।

‎এছাড়া বাংলাদেশ সোসাইটি অব এনেস্থেসিওলজিস্টসের নারায়ণগঞ্জ শাখা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পল্লী চিকিৎসক সমিতির কেন্দ্রীয় পর্যায়েও তিনি অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।

‎চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ভূমিকা রাখাকে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।

‎দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ডা. মুজিবুর রহমানের পথ কখনো মসৃণ ছিল না। চাকরি হারানো, পরিবারের সদস্যদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, মামলা-হামলা এবং কারাবরণের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি।

‎তাঁর সহযোদ্ধাদের মতে, প্রতিকূলতা তাঁকে দুর্বল করার পরিবর্তে আরও দৃঢ় করেছে। তাঁদের ভাষায়, “ডা. মুজিবুর রহমানকে ভয় দেখানো যায়, কিন্তু কেনা যায় না।

‎আজও দলীয় কর্মসূচি কিংবা আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যায়। বয়স তাঁকে থামাতে পারেনি, মামলা তাঁকে ভীত করতে পারেনি, আর কারাবাসও তাঁর মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি।

‎ডা. মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি আঘাতের পর তিনি নতুন করে রাজপথে ফিরেছেন। তাঁর দীর্ঘ পথচলা যেন বলে রাজনীতি শুধু পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার হিসাব নয়; রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য ত্যাগ স্বীকারের নামও রাজনীতি।

‎ষাটোর্ধ্ব এই চিকিৎসক নেতা এখনও নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটল। রাজপথে সক্রিয়তা, সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

‎চাকরিচ্যুতি তাঁকে থামাতে পারেনি, মামলা তাঁকে নত করতে পারেনি, আর কারাগারও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। বরং প্রতিটি প্রতিকূলতার পর আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে এসেছেন তিনি।

‎নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ডা. মুজিবুর রহমান তাই শুধু একজন চিকিৎসক নেতা নন—দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, ধৈর্য ও নিজের বিশ্বাসে অটুট থাকার এক পরিচিত মুখ।