১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ।
সোমবার (১২ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটায় খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন যখন দুর্বিষহ, তখন এলপিজি গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ২২৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
মানুষের আয় বাড়ছে না, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও স্বস্তি নেই। এমন পরিস্থিতিতে রান্নার মতো মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত জ্বালানির দাম এভাবে বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
নেতৃদ্বয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণ কি শুধু মূল্যবৃদ্ধির বোঝা বহন করার জন্য? মানুষের আয়-সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনা না করে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোথায় পেল? আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে জনগণের পকেট কাটার নীতি বন্ধ করতে হবে। জ্বালানি খাতের অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপানো চলবে না।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, এলপিজি গ্যাস এখন সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি পরিবারের রান্নাঘরের ব্যয় বাড়ায় না; এর প্রভাব পড়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহনসহ সামগ্রিক জনজীবনে। জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে এমন সিদ্ধান্ত কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাম্য নয়।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এলপিজি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধ করা এবং জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
নেতৃদ্বয় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার ওপর এমন অন্যায্য অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ গড়ে তুলবে। জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।



































আপনার মতামত লিখুন :