News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

বোম্বাই মরিচের চটপটিতে মাসে লাখ টাকা আয় সুমনের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম বোম্বাই মরিচের চটপটিতে মাসে লাখ টাকা আয় সুমনের

চটপটি খাওয়ার জন্য ধরতে হয় লাইন। অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। ভাবতে অবাক লাগলেও সুমনের বোম্বাই মরিচের চটপটি খেতে গ্রাহকদের ভীড় সবসময় লেগেই থাকছে। মশলা মাখানো, ডিম কাটাসহ সব কিছুই নিজ হাতে করেন সুমন। একসঙ্গে তৈরী করেন ৭-৮ প্লেট চটপটি। নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ায় সুমনের হাতে তৈরী চটপটি খেতে প্রতিদিন ভীড় করছেন ৩ শতাধিক ভোক্তা।

জানা গেছে, বিক্রেতা সুমন ৩ দশক আগে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মাত্র ১৪০০ টাকা বেতনে। তবে বোম্বাই মরিচের চটপটি বদলে দিয়েছে সুমনের জীবনের গল্প। পরিশ্রম সততা নিষ্ঠা যে সৌভাগ্যের চাবিকাঠি সেটাই করে দেখিয়েছেন সুমন। বর্তমানে প্রতিদিন বোম্বাই মরিচের চটপটি বিক্রি করে আয় করছেন ৩ হাজার টাকার উপরে। মাস ঘুরলেই আয় দাঁড়াচ্ছে লাখ টাকার উপরে।

চটপটি বিক্রেতা সুমন জানান, তার পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। ১৯৯৫ সালে জীবিকার সন্ধানে নারাায়ণগঞ্জে এসে শহরের দ্বিগুবাবুর বাজারে গোল্ডেন টি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেছিলেন। এরপর গেঞ্জির (টিশার্ট) ব্যবসা করেছিলেন। তবে সুবিধা হয়নি। তারপরে ২০০১ সাল থেকে বড় ভাইয়ের নির্দেশনায় শুরু করেন চটপটি বিক্রি। প্রথমে ২ বছর হেটে হেটে বিক্রি করতেন। তখন ২-৩ টাকা প্লেট বিক্রি করতেন। পরে ৫ বছর নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে বিক্রি করেছেন। এরপর উকিলপাড়ায় আসেন। উকিলপাড়ায় বিক্রি করছেন ১৮ বছর ধরেন। শুরুতে প্রতি প্লেট ৫ টাকা দরে বিক্রি করতেন। এখন প্রতি প্লেট ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৩০ প্লেটের মতো বিক্রি করছেন। বৃহস্পতিবার ৩৮০ প্লেট ও শুক্রবার ৪২০ প্লেট। যখন ২/৩ টাকা দরে প্লেট বিক্রি করতেন তখন ১৪০ টাকা আমদানী হতো। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা আমদানী হচ্ছে। তবে যখন ১৪০ টাকা বিক্রি হতো তখন নিজে একা ছিলেন। এখন স্ত্রী সন্তানরা রয়েছেন। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ রয়েছে অন্যান্য খরচ রয়েছে। তবে চটপটি বিক্রি করে ফতুল্লার দেওভোগ বাশমুলি এলাকায় ৬ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

শুরুতে কাঁচামরিচ দিয়ে চটপটি বিক্রি করতেন। এখন বোম্বাই মরিচ যত দামই হোক সেটা অবশ্যই থাকতে হবে। চটপটির ছোলা, ডাবলী, ডিম সিদ্ধ করা, ফুচকা ভাজা, মশলা তৈরী সবকিছু নিজ বাড়িতে করা হয়। এসব কাজে তার স্ত্রী ও সন্তানরা সহযোগিতা করে থাকেন।

তিনি আরো জানান, কর্মজীবনে শুরুতে ১৪০০ টাকা বেতনে চাকুরী করেছেন। এরপরে যখন চটপটি বিক্রি করতেন তখন প্রতিদিন বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩৩০ প্লেট বিক্রি হচ্ছে। বন্ধের দিনে কিছু বেশী বিক্রি হয়। ১ টি সিদ্ধ ডিম দিয়ে প্রতি প্লেট চটপটি বিক্রি করছেন ৫০ টাকা দরে। প্রতি প্লেটে লাভ থাকে ১০ টাকা। তার এখানে চটপটে খেতে নারায়ণগঞ্জের বাহিরের থেকেও অনেকে আসেন।

এক ভোক্তা জানান, যখন ৫ টাকা প্লেটে চটপটি বিক্রি করছেন তখন থেকে তিনি এই চটপটি খাচ্ছেন। চটপটির টেস্ট অনেক ইউনিক। সুমন ভাইয়ের হাতের মতো অন্য কোথাও পাই নাই। ২৫ বছর ধরে এখানে চটপটি খাচ্ছি। তার চটপটি আঠালো ও লাসা লাসা একটা ভাব আসে।এটা অন্য কোথাও পাইনাই।

অপর এক ভোক্তা জানান, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে খাচ্ছেন। চটপটি অনেক সুস্বাদু। অনেক দোকান আছে বসে খাওয়ার মতো কিন্তু এখানে খেতে ভাল লাগে এজন্য দাড়িয়ে দাড়িয়ে খাই। নারাায়ণগঞ্জে হোসিয়ারী কাপড়ের মার্কেটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন।তারাও এখানে নিয়মিত খেয়ে থাকে। যারা একবার সুমনের হাতের তৈরী চটপটি খেয়েছে সে এখানে বারবার খাবে।

কয়েকজন ভোক্তা জানান, সুমনের হাতের তৈরী চটপটি অনেক সুস্বাদু মজাদার। অন্যান্য জায়গার চটপটি খেলে এসিডিটি হয় কিন্তু সুমনের হাতের তৈরী চটপটি খেলে কোন এসিডিটি হয়না। এজন্য ভোক্তারা তার চটপটি খেতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে।

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group