২ দিনে খেত ২ ডজন ডিম। প্রতিদিন একাধিকবার পান করতো নানা ধরনের এনার্জি ড্রিংকস। আর এটাই ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে শিশু রেজাউলের। বাবা মায়ের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে একসময় মাদরাসা পড়ুয়া শিশু রেজাউলকে। থাইরয়েডসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন জীবন সঙ্কটাপন্ন রেজাউলের।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাঠেরপুল কাস্টমার মোড় এলাকায় একটি সেমিপাকা বাড়িতে ভাড়া থাকেন শহীদুল ও তার পরিবার। শহীদুল একসময় মুদি দোকান চালালেও বর্তমানে ভাঙারী ব্যবসা করছেন। তার স্ত্রী স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। এক দশক আগেও মাদরাসা লেখাপড়ার সময়ে ছুটোছুটি খেলাধুলা করতে পারতো তাদের একমাত্র ছেলে রেজাউল।
তবে বাবার দোকানে গিয়ে একাধিক এনার্জি ড্রিংকস ও অধিক পরিমাণে ডিম খাওয়ার কারণে তার শরীরে বাসা বাধে নানা ধরনের রোগ। সেসময় বাবা মায়ের ভুলের কারণে সঠিক চিকিৎসারও সুযোগ মেলেনি রেজাউলের। কয়েক বছরের ব্যবধানে তার শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করে। ছোট যে শিশুটি একসময় প্রাণবন্ত ছিল সেই শিশুটির এখন হাটাচলা করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
শিশু রেজাউল জানায়, তার এখন হাটতে অনেক কষ্ট হয়। মনে হয় কোমর ছিড়ে যাচ্ছে। পা অনেক ব্যথা করে। অনেক সময় শ্বাসকষ্টও হচ্ছে।
রেজাউলের বাবা শহীদুল জানান, জন্মের পরে সুস্থ সবলভাবেই বেড়ে উঠেছিল রেজাউল। জন্মের কয়েক বছর পরে তাকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। একমাত্র পুত্র হওয়ায় ছেলেকে অনেক আদর করতেন। তখন তার একটি মুদি দোকান ছিল। ছেলে মাদরাসা থেকে ফিরে দোকানে আসলে তাকে এনার্জি ড্রিংকস খেতে দিতেন। ডিমসহ এটা সেটা খেতে দিতেন। তখন শিশু রেজাউল মুটিয়ে গেলেও তারা তখন বুঝতে পারেন নাই। এরপর ঠিকমতো হাটাচলা করতে না পারায় রেজাউল মাদরাসায় যেতে পারেনি। তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তারা ভেবেছিলেন রেজাউল এমনিতেই সুস্থ হয়ে যাবে। কয়েক বছরের ব্যবধানে রেজাউল আরো মুটিয়ে যায়। চিকিৎসক বলেছে রেজাউলের থাইরয়েডসহ নানা ধরনের রোগ রয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে তারা সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছেননা। তাই সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা চান।
রেজাউলের মা জানান, মাদরাসা থেকে বাবার দোকানে ফিরে একাধিক এনার্জি ড্রিংক খেত। ২ দিনে এক খাচি (২ ডজন) ডিম খেত। এভাবে অধিক এনার্জি ড্রিংক ও ডিম খাওয়ায় তার শরীর মুটিয়ে যায়। সে হাটতে পারতো না। তাকে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিদ্রুপ করতো। যে কারণে সে মাদরাসায় না গিয়ে বাড়িতে বসে থাকতো। এতে সে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তখন আমরা যেমন বুঝি নাই তেমনি অর্থের অভাবে তার সঠিক চিকিৎসাও করাতে পারি নাই। কিছুদিন পূর্বে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসককে দেখিয়েছি। তিনি বলেছেন নিয়মিত চিকিৎসা করালে রোগ ভাল হতে পারে। এজন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। তিনি সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা চান।
রেজাউলের প্রতিবেশী জানান, ছোট বেলায় যখন রেজাউল অধিক পরিমানে এনার্জি ড্রিংক খেয়েছিল তখন সে বেশী হাটাচলা করে নাই। যে কারণে সে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
রেজাউলের চাচা বলেন, শিশুকালে যখন এসব রোগে আক্রান্ত হয় তখন আমরা কেউই বুঝতে পারি নাই। কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত মুটিয়ে গেছে। এখন সে ঠিকমতো হাটতেও পারেনা।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও বাতজ্বর বিশেষজ্ঞ ডা: আমানত হাসান সোহেল জানান, এনার্জি ড্রিংকসে উচ্চ মাত্রার সুগার ও ক্যাফেইন থাকে। ফলে এ পানীয় বেশী মাত্রায় পান করলে শিশুদের স্থুলতাসহ স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরির ঝুঁকি থেকে যায়। তাই শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় নানামুখি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।







































আপনার মতামত লিখুন :