News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

মাসদাইরের একজন ভয়ঙ্কর অপরাধী জাহিদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

আবারো আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকা। শহরের অন্যতম ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এ এলাকাতে মাদক ব্যবসায়ীদের দাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পরাভূত হচ্ছে। সবশেষ ৫ মে মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকাতে র‌্যাবের উপর হামলা করে একদল দুর্বৃত্ত। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে একদল অস্ত্রধারী র‌্যাবের সাদা পোশাকে থাকা সদস্যদের উপর হামলা করে। এ ঘটনার পর ফের আলোচনায় এ জনপদের আরেক ত্রাস ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার খ্যাত জাহিদ।

ফতুল্লার মাসদাইর, ঘোষেরবাগ, গলাচিপা এলাকাতে একচ্ছত্রভাবে মাদক ব্যবসার নিয়স্ত্রক হলেন জাহিদ। দুর্ধর্ষ এ জাহিদের নেতৃত্বে রয়েছে বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারী ও ডাকাত। তাদেরকে দিয়ে বিভিন্নস্থানে এসব অপরাধগুলো করানো হয়।

তাদের একজন মনির হোসেন। কিন্তু দুর্ধর্ষ প্রকৃতির হওয়াতে নাম জুড়ে যায় ফাইটার মনির। ৬ জানুয়ারী বিকেলে ফতুল্লার গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ফাতেমা ইয়াসমিন শিল্পীর মালিকানাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশী চালিয়ে মাদক ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটার জব্দ করা হয়।

১০দিন পূর্বে মাসদাইর বাজারের অপর মাদক বিক্রেতা শাওনকেও কুপিয়ে আহত করেছে এ জাহিদ। এ অপকর্মের পর পুলিশ কিংবা র‌্যাব কেউ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি এ মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর মাসদাইর এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা ও গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে ধরতে র‌্যাবের তৎপরতা টের পেয়ে ছোরা গুলিতে জবা নামে একজন নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বিকেলে সন্ত্রাসী জাহিদকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় র‌্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল। দলটি ফতুল্লার মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় পৌঁছালে জাহিদ ও তার সহযোগীরা র‌্যাবের গোয়েন্দাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে। এসময় জাহিদের ছোড়া গুলি স্থানীয় এক বাড়ির রান্নাঘরে থাকা জবা আক্তার (২২) এর বুকে এসে লাগে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ১৫ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় মাসদাইর এলাকায় নাসিক ১৩নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুর রহমান পারভেজের ওপর ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটায় জাহিদ ও তার সহযোগীরা।

গত বছরের ২৪ জুলাই ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সামছুল হক সরকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাসদাইর ঘোষের বাগ এলাকায় মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাহিদকে গ্রেপ্তার করতে যান। জাহিদকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে তারা যখন ফিরে আসছিলেন, তখনই পেছন থেকে জাহিদের সহযোগীরা এসআই সামছুল হক সরকারের ডান হাতের কনুইয়ের সামান্য নিচে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে আহত এসআই সামছুল হক সরকারকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গত বছরের ১৮ মার্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক ৪ আসামিকে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায় সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীরা। সেদিন মাসদাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ, সুমনসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে কিছুক্ষণ পর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সেলিম ওরফে কসাই সেলিম, রাসেল ওরফে কসাই রাসেল, কাজল, রিয়াদ শাওন, সানি, হাসান সহ ১৫-২০ জনের মাদক কারবারিরা দেশীয় তৈরি অস্ত্র নিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা হ্যান্ডকাফ পরিহিত আটককৃত চার মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয় এবং গাড়ী ভাংচুর করে। মাদক কারবারিদের হামলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কনেস্টেবল আহত হয়। হামলাকারীদের থেকে রক্ষা পেতে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা এক শিক্ষকের বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখানে ও হামলাকারীরা হামলা চালায়।

ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নির্দেশনায় সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মোনাববর হোসেন এর নেতৃত্বে বিজিবি ও জেলা পুলিশের সহায়তায় পুনরায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযানে ২০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ১,৭০০ পিস ইয়াবা, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ১৪ বোতল ফেনসিডিল, হেরোইনসহ চাপাতি, ছুরি, সুইস গিয়ার চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।