পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে যানজট, ফুটপাত দখল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খলা এখনো নগরবাসীর বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। তবে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের পর নগরজীবনে কিছুটা শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
নগরীর চাষাঢ়া মোড়, ২নং রেলগেট ও বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রতিদিনই হাজারো মানুষের চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, সড়কের ওপর অস্থায়ী দোকান এবং অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচলের কারণে এসব এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ফুটপাত ছেড়ে সড়কে হাঁটছেন, যা একদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যান চলাচলও ধীরগতির হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তবে রমজান মাসে হকার উচ্ছেদ বা বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করলে সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এই বিবেচনায় আপাতত তা কার্যকর করা হচ্ছে না। ঈদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।
জানা গেছে, শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন এমপি আবুল কালাম। প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেলে প্রশাসনকে হকার উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছেন। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করলে শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই চাষাঢ়া ও আশপাশের এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যায় অস্থায়ী দোকান ও হকারদের ভিড়ে। ক্রেতাদের ভিড়, অটোরিকশার এলোমেলো অবস্থান এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ সব মিলিয়ে একসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ, এমনকি অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকে।
নগরবাসীর অভিযোগ, মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান চালানো হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কয়েকদিনের জন্য কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চাষাঢ়া ও ২নং রেলগেট এলাকায় হকারদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অটোরিকশা দাঁড় করানো এবং মাঝরাস্তায় যাত্রী ওঠানামা করানোর প্রবণতা যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে। যানজটের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে প্রায়ই মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটার ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন অপরাধের আশঙ্কাও বাড়ছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, তবুও ভিড়ের সুযোগে অপরাধীরা দ্রুত সরে পড়ায় অনেক সময় তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের চলমান ড্রেন নির্মাণকাজও ভোগান্তি বাড়িয়েছে। কিছু সড়কে আংশিক খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য চাপেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, অটোরিকশার জন্য শৃঙ্খলাবদ্ধ স্ট্যান্ড এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেবল সাময়িক অভিযান দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা, গণপরিবহনের নির্দিষ্ট স্টপেজ নির্ধারণ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান আসতে পারে।
ঈদের পর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে নারায়ণগঞ্জের নগরবাসী এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।




































আপনার মতামত লিখুন :