১০ বছর আগে ময়মনসিংহের থেকে নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন ভাগ্যের অন্বেষণে। শুরুতে পড়ে থাকা স্বল্প পরিমাণ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন কৃষিকাজ। অক্লান্ত পরিশ্রমে কৃষিকাজেই বদলেছে কৃষক কেয়ামউদ্দিনের ভাগ্যের চাকা। বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদে মাসে আয় করছেন লাখ টাকার উপরে। সেই সঙ্গে ৭ থেকে ৮ জনের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। গ্রামে নিজ নামে ক্রয় করেছেন দুইশ শতাংশ কৃষি জমি। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চরকাশিপুরে কেয়ামউদ্দিন এখন কৃষকদের অনুপ্রেরণা।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার বাঘেধরা গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এসেছিলেন কৃষক মোঃ কেয়ামউদ্দিন। তবে কোথাও কাজ না পেয়ে অন্যের পতিত জমি নিয়ে শুরু করেন কৃষিকাজ। পরিশ্রম আর একাগ্রতায় জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের পর কেয়ামউদ্দিন আজ সফল কৃষক। শুরুতে স্বল্প পরিমাণ জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের কাজ শুরু করলেও বর্তমানে ৮ একর জমি লিজ বা বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করছেন।
কেয়ামউদ্দিন বছর জুড়ে বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের শাক, ফুলকপি, বাধাকপি, মিষ্টিকুমড়ো, শিম, বেগুন, কচুসহ নানা ধরনের ফসলের চাষ করছেন। নিজেই ভ্যান চালিয়ে এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে ছুটে বেড়ান। উৎপাদিত ফসল ভ্যানগাড়িতে তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। কৃষিকাজ করে বর্তমানে তার মাসে আয় লাখ টাকা। তার অধীনে মাসিক বেতনে ৮ জন কৃষিকাজে নিয়োজিত রয়েছে। কেয়ামউদ্দিনকে দেখে আরো অনেকেই কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
কৃষক মোঃ কেয়ামউদ্দিন জানান, তিনি ১০ বছর আগে গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে আসেন। এরপর অল্প কিছু জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার অধীনে ৭-৮ জন কাজ করছে। বর্ষাকালে তার প্রতি মাস লাখ টাকা আয় হয়। শীত মওসুমে সেচের পানির কারণে আয় কিছুটা কম হয়। কৃষিকাজ করে গ্রামে নিজ নামে দুইশ শতাংশ কৃষিজমি ক্রয় করেছেন। আল্লাহর রহমতে তিনি সুখেই আছেন।
কেয়ামউদ্দিনের অধীনে কৃষিকাজে নিয়োজিতরা জানান, তারা পূর্বে গ্রামে কৃষিকাজ করতেন। বর্তমানে তারা কেয়ামউদ্দিনের অধীনে এখানে মাসিক বেতনে কাজ করছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদরের উপ সহকারি কৃষি অফিসার লাইলুন নাহার বলেন, কেয়ামউদ্দিন প্রথমে অল্প পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ৮ একর জমিতে চাষাবাদ করছেন। বর্তমানে তার প্রতিটি জমিতেই ভাল ফলন আসছে।
সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, মোঃ কেয়ামউদ্দিন প্রথমে উদ্বাস্তু হিসেবে নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি শুরুতে পড়ে থাকা দুই একটা জমি লিজ বা বর্গা নিয়ে সবজি চাষাবাদ করে। এভাবে সে একের পর এক পড়ে থাকা জমি লিজ বা বর্গা নিয়ে শাকসবজি চাষাবাদ করে। তার অধীনে ৭/৮ জন লোক কাজ করছে। সে এভাবে অনেক লাভবান হয়েছে। তাকে দেখে অনেক কৃষক উৎসাহী হয়েছে।
কেয়ামউদ্দিনদের মতো সফল কৃষকদের দেখে সমাজের আরও অনেকে উৎসাহিত হয়ে কৃষিতে এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা সকলের।









































আপনার মতামত লিখুন :