মুখে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও বাস্তবে ভিন্ন রূপ দেখাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। সম্প্রতি কাশিপুর গেউদ্দার বাজার লতিফিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় আলোচিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী শহীদের সাথে তাকে ইফতার করতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় পুরো কাশিপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি এ ফেরদাউস ফতুল্লা থানা বিএনপি নেতাদের কড়া সমালোচনা করে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাওলানা ফেরদাউস নিজেকে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ বিরোধী হিসেবে জাহির করলেও বিগত সময়ে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে নানা অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লতিফিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় ইফতারের সময় তার পাশে বসা ছিলেন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও জোড়া খুনের মামলার আসামি শহীদ। ইফতারের আগে তাদের দুজনকে দীর্ঘক্ষণ একান্ত আলাপচারিতা করতেও দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাশিপুরকে অশান্ত করার মূল কারিগর এই শহীদ। তার নেতৃত্বে একাধিক বাহিনী কাশিপুর খিল মার্কেট, হোসাইনী নগর, বাংলাবাজার, আমবাগান, তাতিপাড়া ও নাগবাড়ি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন তার নিত্যদিনের কাজ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় তারা এখন বিচার চেয়ে কেবল সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করছেন।
মাওলানা ফেরদাউস বিভিন্ন সময় সভা-সমাবেশে সন্ত্রাসীদের পোস্টার টাঙিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিলেও, নিজে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী ব্যক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে"এক অঙ্গে ফেরদৌসের কত রূপ?"
কাশিপুরবাসী মনে করছেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শহীদকে গ্রেপ্তার করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে।



































আপনার মতামত লিখুন :