News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

রাজনীতি থেকে দূরে বিএনপির বহিষ্কৃতরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম রাজনীতি থেকে দূরে বিএনপির বহিষ্কৃতরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তারা একসময় আলোচনায় উঠে এলেও ভোটের ফল ঘোষণার পর দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। বড় ব্যবধানে পরাজয়, কোথাও কোথাও জামানত হারানোর মতো পরিস্থিতির পর এখন তাদের অনেককেই রাজনীতির সক্রিয় অঙ্গন থেকে দূরে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে এসব নেতার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, দলীয় প্রতীক না থাকলেও তৃণমূলের সমর্থন তাদের পক্ষে রয়েছে এবং ভোটের ফলাফলেই তা প্রমাণিত হবে। কিন্তু বাস্তব ফলাফলে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের পূর্ণ সমর্থন ছাড়া নির্বাচনী লড়াই যে কঠিন সেটিই স্পষ্ট হয়েছে এবারের ভোটের মাধ্যমে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিএনপি কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর এবং সাবেক এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিম। দলীয় পরিচয় হারানোর পরও তারা নিজ নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং অনুসারীদের সমর্থনের ওপর ভর করে স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল বলছে, প্রত্যাশিত সাফল্য তাদের কারও ঝুলিতে যায়নি। বেশ কয়েকটি আসনে তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিল তুলনামূলক কম এবং বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে ব্যবধানও ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে করে নির্বাচনের পর তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল দেখিয়েছে, তৃণমূলের বড় অংশ দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গেই থেকেছে। তাদের ভাষ্য, দলীয় প্রতীক ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করার রাজনৈতিক মূল্যই দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট নেতাদের।

অন্যদিকে বহিষ্কৃত নেতাদের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতা, সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক চাপের মতো বিষয়গুলো ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। ফলে প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তির প্রতিফলন পুরোপুরি ঘটেনি বলেও মনে করেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বৃহৎ পরিসরের ভোটে দলীয় প্রতীক, কেন্দ্রীয় সমর্থন এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের পর নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া এই দুইয়ের সমন্বিত প্রভাব ভবিষ্যতে দলে ফেরার পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় ফিরে আসার ক্ষেত্রে সাধারণত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা, তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত নেতাদের জন্য সেই প্রক্রিয়া কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি বরাবরই পরিবর্তনশীল এবং নানা সমীকরণে গড়ে ওঠা। অতীতেও দেখা গেছে, রাজনৈতিক দূরত্ব কিংবা বহিষ্কারের ঘটনা সময়ের সঙ্গে নতুন সমঝোতার পথ তৈরি করেছে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরাজয়ই বহিষ্কৃত নেতাদের রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় এমন সিদ্ধান্ত এখনই টানা কঠিন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল তাদের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বার্তা হয়ে এসেছে। দলীয় শৃঙ্খলা, প্রতীক এবং সংগঠনের ঐক্যের গুরুত্ব আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, আত্মসমালোচনা ও নতুন কৌশল নিয়ে তারা কি আবারও মূল ধারার রাজনীতিতে ফিরতে পারেন, নাকি ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানেই নিজেদের সীমাবদ্ধ থাকবেন।