ফতুল্লায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত সাব্বির হত্যার বিচার দাবীতে আদালতপাড়ায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে স্বজনরা আহাজারি করেছেন। তাদের আহাজারিতে আদালতপাড়ায় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আশপাশে থাকা লোকজন আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সাব্বির হত্যার বিচার দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। আর এই মানববন্ধনে অন্যান্য স্বজনদের সাথে সাব্বিরের মা সাফিয়া বেগম ও খালা রাবেয়া বেগম উপস্থিত হয়েছিলেন।
মানববন্ধনে সাব্বিরের মা সাফিয়া বেগম আহাজারি বলেন, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। আমার সন্তানের কোনো দোষ ছিলো না। সন্ত্রাসী সোহাগ রোমান সেলিম আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।
নিহত সাব্বির সাফিয়া বেগমের সন্তান হলেও তাকে তার খালা রাবেয়া বেগম লালন পালন করতেন। ফলে তার কষ্ট অনেক বেশি। তিনি যেন সাব্বির হত্যাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি মানববন্ধনে আহাজারি করতে করতে একেবারে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
রাবেয়া বেগম বলেন, আমি সাব্বিরকে কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। সে আমাকে বড় মা বলে ডাকতো। কোনো সময় বাহিরে গেলে বাসায় এসেই বলতো বড় মা কোথায়? এখন আর কেউ বলে না আমার বড় মা কোথায়। সন্ত্রাসীরা আমার সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
এর আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কুপিয়ে আহত করার দুইদিন পর সাব্বির (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত সাব্বির ফতুল্লা মডেল থানার পিঠালিপুল পূর্ব মামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও নিহত ইস্রাফিলের ছেলে। সাব্বিরের বাবা ইস্রাফিলকেও পূর্বে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছিলো।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাব্বির ও সোহাগ গ্রুপের মধ্যে মাদক ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সোহাগ গ্রুপের হামলায় সাব্বির আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফিরে আসেন। এ ঘটনায় সাব্বিরের ভাই তানভীর আহম্মেদ বাদী হয়ে সোহাগ, খোকন, রাব্বি সহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
পরবর্তীতে গত ৪ মার্চ রাত তিনটার দিকে সাব্বির সেহরি খেতে শিবু মার্কেট এলাকায় গেলে সোহাগ গ্রুপের সদস্যরা তার ওপর আবারও হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্বজনরা তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।






























আপনার মতামত লিখুন :