News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

এনসিপি নেতার ১০ পার্সেন্ট!


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:১১ পিএম এনসিপি নেতার ১০ পার্সেন্ট!

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লার বিভিন্ন হাট ঘাটের টেন্ডারে অংশ নিয়ে বড় অংকের টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ফতুল্লা ডিআইটি মাঠের হাটের দরপত্র কেনার পরেও শেষ সময়ে ১০ শতাংশ কমিশনে রফাদফা ঘটে। আর সেই রফাদফায় এনসিপির নেতারা দরপত্র ক্রয় করলেও আর জমা দেয়নি। ফলে কোন ধরনের আওয়াজ ছাড়াই মাঠের দরপত্র সম্পন্ন হয়। চুপিসারে বিএনপি নেতা ইজারা পেয়ে যান। তবে ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়া বক্তাবলীর রাজাপুর খেয়াঘাটের দরপত্র নিয়ে সমঝোতা না হওয়াতে বিএনপির পাশাপাশি এনসিপি, জামায়াত নেতারা দরপত্র জমা দিতে গেলে মারামারির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর রাতে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন এনসিপির এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। সেখানে তিনি এনসিপিকে পরিশুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বিপরীতে সমঝোতার বিষয়টি একেবারে খোলাসাও করে দিয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি যেন ঝুট ঝামেলা না হয়। গতরাত থেকেই আমি জামায়াত এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে বলেছি যে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, রোজার ঈদের আগে ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ সহ বিভিন্ন সেক্টরে ইজারা সম্পন্ন হয়। ইজারার আগে ফতুল্লা মাঠের নজর ছিল এনসিপি নেতাদের। তরিকুল নামের এনসিপি নেতা দরপত্র ক্রয় করেন। তিনি আবার বক্তাবলী খেয়াঘাটের দরপত্রও কিনেছিলেন। ডিআইটি মাঠের দরপত্র ক্রয়ের পর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের তিন দফায় বৈঠক হয়। শুরুতে এনসিপি নেতা তরিকুল বিএনপি নেতাদের কাছে ৩০ ভাগ কমিশন চায়। পরে দ্বিতীয় দফায় ২০ ভাগে নেমে আসে। তখন এনসিপির সঙ্গে জামায়াতও যুক্ত হয়। এ নিয়ে রাতভর জল্পনা শেষে দরপত্র দাখিলের দিন সকাল ১১টায় এক বৈঠকে এনসিপি ১০ ভাগে রাজী হয়। তখন এনসিপি নেতারা একজন জনপ্রতিনিধির নামেও কমিশন চেয়েছিল। শেষতক সমঝোতায় জামায়াত ও এনসিপি নেতারা দরপত্র দাখিল করেনি। সে কারণে বিএনপি নেতা পেয়ে যান মাঠের ইজারা।

বক্তাবলী ঘাট নিয়েও একই পন্থায় আলোচনা শুরু হয় তিন চারদিন ধরে। এতে বক্তাবলীর বিতর্কিত রশিদ মেম্বার সহ আরো কয়েকজন সমঝোতায় রাজী না হলেও থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিলো সোমবার। এই ঘাটের ইজারা নিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির অনুসারীরা আগ্রহী ছিলো। তবে সকাল থেকে পুরো সদর উপজেলা কেন্দ্র ঘিরে রাখে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা  নজরুল গ্রæপ ও রশিদ মেম্বার গ্রæপ। দুপুর ১টায় জামায়াত এবং এনসিপির তরিকুল ও তাওহিদ সহ কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বাধা দেয় বিএনপি কর্মীরা। বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকরকে মারধর করে বিএনপি কর্মীরা। তাড়িয়ে দেয়া হয় উপজেলা প্রাঙ্গন থেকে। দরপত্র জমা দিতে না পেরে চলে যান জামায়াত অনুসারীরা।

ঘটনা জানাজানি হতেই উপজেলার সামনে জড়ো হতে থাকে এনসিপির কর্মীরা। দুপুর আড়াইটায় ফের মারামারিতে জড়ায় বিএনপি ও এনসিপির কর্মীরা। মারামারির এক পর্যায়ে এনসিপির কর্মীরা বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।