নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাব্বির আহম্মেদ শহীদকে আইনের আওয়াত আনার দাবি জানিয়েছেন। আব্দুল্লাহ আল আমিন এর এমন বক্তব্যে পুঁজি করে শহীদকে আলআমিনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিকভাবে আল আমিনকে কোনঠাসা করতে একটি মহল ডাকাত ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ওই মহলটি বিতর্কিত শহীদকে ইন্ধন দিয়ে আল আমিনের বিরুদ্ধে ডাকাত শহীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করিয়েছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়ত নেতা মনির হোসেন কাশেমীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
ওই সময় কাশিপুর এলাকায় মনির হোসেন কাশেমীর নির্বাচনী প্রচারণায় ডাকাত শহীদকে তার পাশে দেখা গেছে।
এছাড়াও আল আমিন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফতুল্লা এলাকায় ঝুট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি সহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। এসব নিয়ে তিনি বিভিন্ন সভা এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং সহ গণমাধ্যমেও দিপ্ত কণ্ঠে প্রতিবাদ এবং জোরালো বক্তব্য করেছেন। এতে করে অনেক বিএনপি নেতাকেই বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে আল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়তে চায়নি।
তবে এবার ডাকাত শহীদকে নিয়ে বক্তব্য নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন এমপি আল আমিন। ডাকাত শহীদ এমনিতেই বিতর্কিত ব্যক্তি। তাই নতুন করে তার বিতর্কিত হওয়ার মত কিছু নেই। ফলে আল-আমিনকে গায়েল করতে এবার ডাকাত শহীদকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন ওই মহলটি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এমপি আল আমিনের দেওয়া ডাকাত শহীদকে গ্রেপ্তারের দাবির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কাশিপুরে ডাকাত শহীদের নেতৃত্বে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে এবং সেই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ডাকাত শহীদের পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্যে একজন আইন প্রণেতার হাত ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রীতিমত আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন আইনপ্রণেতা সংসদ সদস্যকে এভাবে প্রকাশ্যে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। প্রশাসনের উচিত ওই বিক্ষোভ মিছিলটির ব্যাপারে তদন্ত করা এবং একজন আইন প্রণেতাকে এমন হুমকি প্রদান কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
এর আগে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের শেল্টার দেয়া বন্ধে সাবেক কাউন্সিলর বিভাকে সতর্ক করা সহ কেউ যেন তাকে শেল্টার না দেয় সেই বার্তা দিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। গত ৩০ জুন নাসিক প্রশাসক এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর এমন তথ্য জানান বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে। এসময় সাবেক কাউন্সিলর বিভা হাসানকেও ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। মূলত কেউ যেন শহীদের বিষয়ে সুপারিশ না করে এবং তার অপকর্মের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগীতা করা হয় এমন বার্তা পৌছান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি সুজন মাহমুদ। তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের যানজট নিরসন কমিটির সদস্য। আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে সিটি করপোরেশন গিয়েছিলাম, তখন শুনেছিলাম প্রশাসক সাহেব ফোন করে বিভা হাসানকে বলছেন, তোমরা ডাকাত শহীদকে সেক্রেটারি বানিয়েছো কেন? তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে। তারে বাদ দিয়ে ভালো মানুষকে নিয়ে কমিটি বানাও।
সূত্র বলছে, সাব্বির আহমেদ শহীদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উঠা চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। নিতাইগঞ্জে শহীদ ও তার অনুগামীরা শ্রমিক ইউনিয়নের আড়ালে গড়ে তুলেছে টর্চার সেল এমনটিই অভিযোগ এক ভুক্তভোগীর। গতমাসে টর্চার সেল থেকে পালিয়ে বেঁচে ফেরা অপহৃত ট্রাক মালিক রাশেদের ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। হাসপাতালের বিছানায় আহত অবস্থায় নিজের উপর চলা অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ট্রাক মালিক রাশেদ।
ঘটনার বর্ননা দিয়ে রাশেদ জানায়, সম্প্রতি ধার দেনা করে নিজে একটি ট্রাক ক্রয় করেন। সেই থেকেই তার ট্রাকের উপর নজর পরে শহিদ গ্রুপের সদস্যদের। কৌশলে ডেকে এনে তাকে অপহরণ করে আটকে রাখে এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সেই টাকা না দিলে তার ট্রাক তাদের নামে লিখে দিতে হবে অথবা দিতে হবে প্রাণ।
জানা গেছে, শহীদ, সবুজ ও বাপ্পীর বিরুদ্ধে কাশিপুর, বাবুরাইল, মাসদাইর, নিতাইগঞ্জ, শহীদনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। ভুক্তভোগীরা নীরবে মুক্তিপন দিয়ে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসতো। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সাহস পেত না। এবারই স্ট্যান্ডের একজন ভুক্তভোগী মারধরের পর পালিয়ে মুক্তি পেয়ে অপহরণের খবর প্রকাশ্যে আনে।
শুধু অপহরণই নয়, এই অত্র অঞ্চলের পুরো মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই শহীদ - সবুজ - বাপ্পী গ্যাং। এরা অতীতে শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমানের ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে তুলে অপরাধের রাজত্ব। ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি তারা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিএনপি নেতা রূপ ধারণ করেছে। আর চালাচ্ছে রামরাজত্ব।


































আপনার মতামত লিখুন :