নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চাঁদমারীতে ডিশ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দেওয়া শরীফ একজন দুর্ধর্ষ ঘাতক। নাসির ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো খুনের অভিযোগ রয়েছে। ১৪ মে নাসিরকে চাঁদমারী মাউরাপট্টিতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হত্যার পর পালিয়ে যায়। পরে আবার আদালতে আত্মসমর্পন করেন।
আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে শরীফ বলেন, রাতে এলাকাতে আমাদের হাঁটাচলা করতে দেখলে নাসিম ধমক দিতো। আমরা এলাকাতে নেশাপানি করতাম। সে এসব পছন্দ করতো না। আমরা ইয়াবা খেতাম। এজন্য ক্ষোভ ছিলো। গত ১৪ মে তল্লা সেকশন বাড়ির মাঠে আমি এবং জুয়েল ৮ পিস ইয়াবা সালাউদ্দিনের কাছ থেকে কিনতে গিয়েছিলাম। তার কাছে ইয়াবা পাইনি। মাউরা পট্টিতে ফ্রেন্ডস ক্যাবলের অফিসে নাসিরকে দেখতে পাই। পরে বাসা থেকে ছুরি চাকু এনে তাকে হত্যা করি। তারপর আমরা পালিয়ে যাই। সুইচ গিয়ার চাকু এবং চায়না ছুরি আমি অনলাইন থেকে ক্রয় করেছি।
১৪ মে চাঁদমারী মাউড়াপট্টি এলাকার ফ্রেন্ডস ক্যাবল অফিসে নাছির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনায় স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই রাত ১০টায় চাঁদমারী মাঊরাপট্টি অটোরিকশার গ্যারেজে নিয়ে হাত পা বেঁধে কালা মানিক ওরফে পিচ্চি মানিককে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। বিচারের কথা বলে ডেকে এনে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে মানিককে। এই ঘটনার এক সপ্তাহে ব্যবধানে পিচ্চি মানিক হত্যার ঘটনায় জড়িত শরীফ, নাঈম ও শান্তকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। এর মধ্যে নাঈম ও শান্তকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাসির হত্যায়। মানিক (৩৫) হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম বাদী ৯ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত নামা ৬-৭ জনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার আসামীরা হলো দাউদ (৫৫), শরীফ (৩৫), আরিফ (২৯), সজীব (২৭), শান্ত (২৩), নাঈম (২১), তুহিন (২৫), জিসান (২০) ও জুয়েল (২০) সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৬-৭ জন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, নিহত মানিক ওরফে কালা মানিক ওরফে পিচ্চি মানিক একজন রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী। হক বাজার এলাকা তার একটি রড সিমেন্টের দোকান রয়েছে। অভিযুক্তদের সাথে নানা বিষয়ে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিলো। সোমবার রাত আটটার দিকে নিহত মানিক ওরফে কালা মানিক ওরফে পিচ্চি মানিক তার তিন বন্ধু সৌরভ, রুবেল ও রাশেদ বাবুকে নিয়ে চানমারী সেকশন বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। পৌনে নয়টার দিকে চানমারী মাউরাপট্টি দোতলা গার্মেন্টস সংলগ্ন দাউদ- শরীফের গ্যারজের সামনে পৌছামাত্র বাদীর স্বামী কে কৌশলে শরীফ গ্যারেজের ভিতর নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে অভিযুক্ত আসামীরা বাদীর স্বামীকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপাতে থাকে। এ সময় গ্যারেজের ভিতর ডুকে কোপানোর দৃশ্য দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে তার অপর দুই বন্ধু রুবেল ও রাশেদ বাবু নিহতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। এ সময় আসামীরা বাবুকে ও রক্তাক্ত জখম করে। মানিক ওরফে কালা মানিক ওরফে পিচ্চি মানিকের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকচক্র ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাত পৌনে দশটার দিকে শহরের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মানিক ওরফে কালা মানিক ওরফে পিচ্চি মানিক কে মৃত ঘোষণা করে।
সবশেষ ১৪ মে দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর চাষাড়া চাঁদমারি এলাকায় নাসির হোসেন নামে এক ডিস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত মো: নাসির হোসেন চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা সাফাজউদ্দিনের পুত্র। তিনি চাঁদমারি এলাকায় ডিস ও ইন্টারনেটের ব্যবসা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১ টার দিকে নাসিরকে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে জখম করা হয়। এসময় এক ঘাতক দৌড়ে পালানোর সময় পাশের একটি বাড়ির ভেতর ছুরিটি ফেলে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে খানপুরস্থ ৩০০ শয্যাবিশিষ্টি হাসপাতালে নেয়া হয়।


































আপনার মতামত লিখুন :