প্রায় কোটি মানুষের মানুষের বসবাসের জেলা নারায়ণগঞ্জ। যদিও আদমশুমারী অনুযায়ী প্রায় ৪০লাখ লোকের বসবাস এখানে। তবে শিল্পের রাজধানী হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ভাসমান লোকের বসবাস অনেক বেশি। ফলে কোটি মানুষের বসবাসের জেলা হিসেবে ধরে নেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মহল। আর এই কোটি মানুষের বসবাসের জেলায় নেই কোনো ট্রমা সেন্টার।
সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে কোনো চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ থাকে না। তাকে দ্রুত ঢাকার দিকেই ছুটতে হয়। আর এই ঢাকা যাওয়ার পথেই কাউকে কাউকে পরপারে পাড়ি জমাতে হয়। নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিতরে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ নেই। একজন ডাক্তার আছেন যিনি সপ্তাহে একদিন অপারেশন করে থাকেন।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন শত শত লক্ষ লক্ষ গাড়ি যাতায়াত করে। সেই সাথে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও কম নয়। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত জনবহুল একটা এলাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে ৪০ লক্ষ লোকের বসবাস; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আরও ৪০ লক্ষ লোক ভাসমান হিসেবে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। যার কারণে এখানে পরিবহন দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিবছরই বেশ কিছু রোগী এখানে মারা যায়। এজন্য নারায়ণগঞ্জে একটা ট্রমা সেন্টার প্রয়োজন। এটা যদি চিটাগাং রোডে অথবা সিলেট মহাসড়কের কাছাকাছি করা গেলে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য মতে, সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের জনসংখ্যা ছিল ৩৯ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ জন। বিগত সময়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনুযায়ী বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪২ লাখ ১১ হাজার।
বিআরটিএ সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে ৩৭৬ টি। এর মধ্যে ১৪০ জন আহত হয়েছেন। সেই সাথে মারা গেছেন ৩৪০ জন।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম হিমেল বলেন, নারায়ণগঞ্জের জন্য খুবই জরুরি ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা। এখানে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা পায় না।
নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা. মো. আবুল বাসার বলেন, আমাদের হাসপাতালে একজন ডাক্তার আছেন যিনি এই চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তিনি সপ্তাহে একদিন অপারেশন করে থাকেন। এটা নারায়ণগঞ্জের পর্যাপ্ত নয়। এখানে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। এখানে প্রায় সময়ই সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নেই। একজনের পক্ষে যতটুকু সম্ভব তিনি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ.আবুল ফজল মুহম্মদ মুশিউর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় কোনো ট্রমা সেন্টার নেই। নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত জনবহুল একটা এলাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে ৪০ লক্ষ লোকের বসবাস; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আরও ৪০ লক্ষ লোক ভাসমান হিসেবে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। যার কারণে এখানে পরিবহন দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিবছরই বেশ কিছু রোগী এখানে মারা যায়। এজন্য নারায়ণগঞ্জে একটা ট্রমা সেন্টার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এখানে যেহেতু মেডিকেল কলেজ নেই মেডিকেল কলেজ স্থাপনে যদি দেরি হয় ট্রমা সেন্টার যদি দ্রুত করা যায় তাহলে অনেক মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্থ অথবা পঙ্গুত্বের হাত থেকে বেঁচে যাবে। দুর্ঘটনায় আহত রোগিদের যদি দ্রুত ট্রমা সেন্টারে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা চিকিৎসা না দেয়া যায় এরা পঙ্গুত্বের শিকার হয়ে যায়। যার কারণে আমি মনে করি নারায়ণঞ্জ জেলায় একটা ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা জরুরি। আশা করি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজর দিবেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটা ট্রমা সেন্টার প্রয়োজন। আমরা সাধারণত নানা কারণেই ট্রমাটাইজড থাকি। ট্রমাটাইজড লোকগুলোকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য ট্রমাসেন্টার দরকার। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে হাসপাতালগুলোতে ট্রমা সার্ভিস এবং নতুন করে ট্রমা সেন্টার করা যায় কিনা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

































আপনার মতামত লিখুন :