News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ নেতা শিখনকে বের করে দিল বিএনপি নেতা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম আওয়ামী লীগ নেতা শিখনকে বের করে দিল বিএনপি নেতা

বিএনপির একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতা শিখন সরকার শিপনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ১৫ জুলাই সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ সরকারি প্রাথমিক বালক বালিকা বিদ্যালয়ে এমপি আবুল কালাম, নাসিক প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত 'প্রাথমিক শিক্ষা পদক' প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণে দেওভোগ সরকারি প্রাথমিক বালক বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতা শিখন সরকার শিপন। অনুষ্ঠানে বার বার অতিথিদের কাছে কানাঘোঁষা করতে থাকে শিখন। তার এ আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আমিনুর ইসলাম মিঠু।

ওই সময়ে ‘আওয়ামী দোসর হয়ে শিখন সরকার রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কারণ জানতে চান’। এক পর্যায়ে শিখন সরকার ছটপট করে অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে বসা চেষ্টা করলে বিএনপি নেতা মিঠু ‘বিতর্কিত দোসর’ বলে তাকে অনুষ্ঠান থেকে ত্যাগ করতে বলেন।

উপস্থিত অন্যরা আওয়ামী দোসর শিখন সরকারকে বের করে দেন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিএনপি নেতা মিঠুর এমন সিদ্ধান্তে উপস্থিত তাকে নিয়ে প্রশংসা করতে দেখা যায়।

বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকার আমলে শিখন সরকার শিপন স্থানীয়ভাবে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম ও নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতা শিখন সরকার শিপন এখন বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইতোমধ্যে তিনি বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন, অপেক্ষা করছেন সরাসরি দলটিতে অংশগ্রহণ করার। এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূলেও রয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের অপকর্মের অংশীদার হিসেবে যে লোকের গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকার কথা ছিল তিনি বরং বিএনপির কয়েকজনের আস্থাভাজন হয়ে এখন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাকে নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যেও রয়েছে ক্ষোভ। তারা ওসমান-ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে নেতৃত্বে চান বলেও জানিয়েছেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিখন সরকার ৫ আগস্টের পর থেকেই নিজের ভোল পাল্টানোর চেষ্টায় ছিলেন। তাকে সহযোগিতা করেছেন মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা। 

২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করলে, শিখন সেই কমিটিতে জায়গা পান। ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষিত ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে কার্যকরী সদস্য পদে রাখা হয়। এর আগে বিলুপ্ত শহর আওয়ামী লীগের কমিটিতেও সভাপতি ও সেক্রেটারি পদে ছিলেন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা। সেই কমিটির সহসভাপতি ছিলেন শিখন। সেই কমিটির মেয়াদ ছিল ৭ বছর।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নাটকীয়ভাবে তার অবস্থান পাল্টে যায়। আওয়ামী লীগের সক্রিয় মুখ থেকে তিনি বিএনপির নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন। এর পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শিখনকে ঘিরে শুরু হয় আলোচনা। আর এই নিয়ে শিপনকে সমর্থনকারী হিসেবে সাখাওয়াত-টিপুর নাম উঠে আসে। শুধু বিএনপির নেতাদের সান্নিধ্যই নয়, প্রশাসনিক অঙ্গনেও দেখা যায় শিখনের উপস্থিতি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সভায় তাকে নিয়মিত দেখা যায়। কখনো বক্তব্য রাখতে, কখনো আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাকে। এভাবেই তিনি নিজের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।