নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিনকে প্রকাশ্যে হাত ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দিয়ে রীতিমত এলাকায় উচ্ছ্বাস করে বেড়াচ্ছে ডাকাত শহীদের বাহিনী। একাধিক মামলার আসামী এবং কাশিপুর অঞ্চলের মাদক, ভুমিদস্যু, অপহরণ, ডাকাতি সহ একাধিক অপরাধ চক্রের হোতা ডাকাত শহীদকে নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের পরেই স্পর্ধা দেখিয়েছে তারা। নব্য নুর হোসেনের বেশে আবির্ভুত হওয়া এই শহীদ বাহিনীর লোকজন একজন সংসদ সদস্যকে হুমকি দিলেও নীরব ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
গত ১৩ জুলাই ডাকাত শহীদের অনুসারী এবং ভাড়াটে নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে আবদুল্লাহ আল আমিনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। যেখানে এমপি আল আমিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দায়িত্বশীল ভুমিকার কথা জানান। কিন্তু তার বদলে শহীদ বাহিনী উল্টো এমপিকে হত্যাচেষ্টার হুমকি দিতে শুরু করেছে। প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে এনে এই হুমকি দেয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন এমন নজিরে। দীর্ঘদিন আজমেরী ওসমানের সহযোগীতায় কাশিপুর অঞ্চলে ত্রাস তৈরী করা ডাকাত শহীদ এখন হাসিনা পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া অন্যতম নেতা এবং এমপিকে নিজের লোকজন দিয়ে হুমকি দিতে পারছে। অথচ পুলিশ প্রশাসন নীরবে বসে আছে এবং এই ঘটনায় কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক – সুজন এর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আশু বলেন, একজন এমপিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়া এইটা সমাজকে ভালো বার্তা দেয় না। একজন এমপি সংশ্লিষ্ট জেলার সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি। তিনিই সংসদে আইন প্রনয়ন করেন। তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া উচিৎ কারন তিনি জনগনের ভোটে নির্বাচিত এমপি। সে রাতের ভোটের এমপি না। পাশাপাশি তিনি গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ব্যক্তি। তাকে এভাবে হুমকি দেয়ার বিষয়টি আমাদের সমাজকে ভালো বার্তা দেয়না। সমাজে যে সুশাসন যে নাই তারই প্রমান হচ্ছে এই ধরনের হুমকি প্রদান। প্রশাসনকে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। এভাবে একটি রাষ্ট্র চলতে পারে না।
এর আগে, গত ১২ জুলাই আবদুল্লাহ আল আমিন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে বলেন, ‘ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় বড় একটি সমস্যা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলার অবনতি। এখানে একজনের নাম উল্লেখ করতেই হয় সেটা হচ্ছে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদ গ্যাং। এই অপরাধীর নাম প্রতিনিয়ত পত্রিকায় পাবেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন স্টেপ নেয়া হচ্ছে না। প্রশাসন চাইলে বলতে পারে মিডিয়ায় যা বলছে তা মিথ্যা, আসলে উনি ভালো মানুষ। কিন্তু একজন ব্যক্তির বিষয়ে মাসের পর মাস অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠছে আর প্রশাসন যদি নীরব থাকে তখন প্রশাসনের উপর জনগনের আস্থা কমতে শুরু করে।‘
তবে এমপির এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ডাকাত শহীদ ও তার বাহিনীর অপরাধ অপকর্মের দীর্ঘ ইতিহাস। সূত্র বলছে, সাব্বির আহমেদ শহীদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উঠা মাদক, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। গতমাসে তার বাহিনীর টর্চার সেল থেকে পালিয়ে বেঁচে ফেরা অপহৃত ট্রাক মালিক রাশেদের ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। হাসপাতালের বিছানায় আহত অবস্থায় নিজের উপর চলা অত্যাচারের বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ট্রাক মালিক রাশেদ। ঘটনার বর্ননা দিয়ে রাশেদ জানায়, ধার দেনা করে নিজে একটি ট্রাক ক্রয় করেন। সেই থেকেই তার ট্রাকের উপর নজর পরে শহিদ গ্রুপের সদস্যদের। কৌশলে ডেকে এনে তাকে অপহরণ করে আটকে রাখে এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সেই টাকা না দিলে তার ট্রাক তাদের নামে লিখে দিতে হবে অথবা দিতে হবে প্রাণ।
ডাকাত শহীদের শেল্টার দেয়া বন্ধে সাবেক কাউন্সিলর বিভাকে সতর্ক করা সহ কেউ যেন তাকে শেল্টার না দেয় সেই বার্তা দিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। গত ৩০ জুন নাসিক প্রশাসক এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় তৎপর এমন তথ্য জানান বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে। এসময় সাবেক কাউন্সিলর বিভা হাসানকেও ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। মূলত কেউ যেন শহীদের বিষয়ে সুপারিশ না করে এবং তার অপকর্মের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে তথ্য সহযোগীতা করা হয় এমন বার্তা পৌছান তিনি।



































আপনার মতামত লিখুন :