News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিএনপিতে পুরস্কৃত বিতর্কিত শহীদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম বিএনপিতে পুরস্কৃত বিতর্কিত শহীদ

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা। এতো বিতর্কের মাঝেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তারেক জিয়া পরিষদ। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি সহ স্থানীয় গণমাধ্যমে যখন সাব্বির আহম্মেদ শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদকে নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে ঠিক তখন বিতর্কিত এই ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করেছে বিএনপি।

তাকে তারেক জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদের মনোনীত করা হয়েছে।

সম্প্রতি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ইব্রাহীম রাজু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মো. শহিদ হোসেনের সক্রিয় ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মূল্যায়ন স্বরূপ তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক পদে মনোনীত করা হলো।

সমালোচিত এই ডাকাত শহীদ কে তারেক জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি স্থান দেওয়া নিয়ে আবারো নতুন করে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, অপহরণ, কিশোর গ্যাং শেল্টার দাতা সহ অসংখ্য অভিযোগ এই ডাকাত শহীদের বিরুদ্ধে।

ইতোমধ্যে তার নাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তালিকা ভুক্ত হয়েছে বলেও খবর শোনা গেছে। এমন একজন ব্যক্তিকে কোনো সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া এসব সন্ত্রাসীদের দলীয় পৃষ্ঠপোষকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জানা গেছে, এর আগে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের শেল্টার দেয়া বন্ধে সাবেক কাউন্সিলর বিভাকে সতর্ক করা সহ কেউ যেন তাকে শেল্টার না দেয় সেই বার্তা দিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। গত ৩০ জুন নাসিক প্রশাসক এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে শহীদ ওরফে ডাকাত শহীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর এমন তথ্য জানান বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে। এসময় সাবেক কাউন্সিলর বিভা হাসানকেও ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। মূলত কেউ যেন শহীদের বিষয়ে সুপারিশ না করে এবং তার অপকর্মের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগীতা করা হয় এমন বার্তা পৌছান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি সুজন মাহমুদ। তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের যানজট নিরসন কমিটির সদস্য। আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে সিটি করপোরেশন গিয়েছিলাম, তখন শুনেছিলাম প্রশাসক সাহেব ফোন করে বিভা হাসানকে বলছেন, তোমরা ডাকাত শহীদকে সেক্রেটারি বানিয়েছো কেন? তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে। তারে বাদ দিয়ে ভালো মানুষকে নিয়ে কমিটি বানাও।

সূত্র বলছে, সাব্বির আহমেদ শহীদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উঠা চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। নিতাইগঞ্জে শহীদ ও তার অনুগামীরা শ্রমিক ইউনিয়নের আড়ালে গড়ে তুলেছে টর্চার সেল এমনটিই অভিযোগ এক ভুক্তভোগীর। গতমাসে টর্চার সেল থেকে পালিয়ে বেঁচে ফেরা অপহৃত ট্রাক মালিক রাশেদের ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। হাসপাতালের বিছানায় আহত অবস্থায় নিজের উপর চলা অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ট্রাক মালিক রাশেদ।

ঘটনার বর্ননা দিয়ে রাশেদ জানায়, সম্প্রতি ধার দেনা করে নিজে একটি ট্রাক ক্রয় করেন। সেই থেকেই তার ট্রাকের উপর নজর পরে শহিদ গ্রুপের সদস্যদের। কৌশলে ডেকে এনে তাকে অপহরণ করে আটকে রাখে এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সেই টাকা না দিলে তার ট্রাক তাদের নামে লিখে দিতে হবে অথবা দিতে হবে প্রাণ।

জানা গেছে, শহীদ, সবুজ ও বাপ্পীর বিরুদ্ধে কাশিপুর, বাবুরাইল, মাসদাইর, নিতাইগঞ্জ, শহীদনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। ভুক্তভোগীরা নীরবে মুক্তিপন দিয়ে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসতো। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সাহস পেত না। এবারই স্ট্যান্ডের একজন ভুক্তভোগী মারধরের পর পালিয়ে মুক্তি পেয়ে অপহরণের খবর প্রকাশ্যে আনে।

শুধু অপহরণই নয়, এই অত্র অঞ্চলের পুরো মাদক ব্যবসা, ভুমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই শহীদ - সবুজ - বাপ্পী গ্যাং। এরা অতীতে শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমানের ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে তুলে অপরাধের রাজত্ব। ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি তারা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিএনপি নেতা রূপ ধারণ করেছে। আর চালাচ্ছে রামরাজত্ব।