News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাইফেল ক্লাবের অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম রাইফেল ক্লাবের অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত রাইফেল ক্লাবের লুট হওয়া অধিকাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২১৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও ভাঙচুর-লুটপাট হয় বিভিন্ন থানায়। এদিন জেলা পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে।

ক্লাবের শুটিং সম্পাদক কাজী ইমরুল কায়েস জানান, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট ক্লাবের ভল্ট ভেঙে ৮৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং ১০ হাজার ৫৯৪টি গুলি লুট করা হয়। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ২ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক অস্ত্র রয়েছে। অটোমেটিক অস্ত্র অপরাধীদের হাতে পড়লে তা অবশ্যই বিপজ্জনক। এর মধ্যে মাত্র ৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, দ্রুত লুট হওয়া অস্ত্রসহ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘লুট হওয়া এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল, কিন্তু তেমনটি আমরা দেখিনি। এসব অস্ত্র ভুল লোকের হাতে চলে গেলে ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনা আমরা মনিটরিং করেছি। ফলে অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে না।’

১৯৫০ সালে চাষাঢ়ায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এক বিঘা জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব। পরবর্তীকালে এটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শুটিং ও ক্রীড়া ক্লাব হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে এই ক্লাবের শুটার শাহানা পারভীন বাংলাদেশের হয়ে শুটিংয়ে প্রথম স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ক্লাবের ক্রিকেট দল থেকেও জাহাঙ্গীর আলম, শাহরিয়ার হোসেন, জাকারিয়া ইমতিয়াজ এবং জুয়েল হোসেন ওরফে মনা জাতীয় দলে খেলেছেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও ৩৩ শতাংশ জায়গা ৩০ বছরের জন্য ক্লাবটির নামে ইজারা নিবন্ধন করে দেয়। ক্লাবটি বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলকে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তার মাধ্যমে গত ১৭ বছর ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন শামীম ওসমান। তাদের দাবি, এ সময় ক্লাবটি তার ব্যক্তিগত কার্যালয় ও টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই এই ক্লাব থেকে বেরিয়ে শামীম ওসমান দলবল নিয়ে শহরে সশস্ত্র মহড়া দেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও আলোচিত ছিল রাইফেল ক্লাব। ১৯ জুলাই শতশত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে আন্দোলন দমন করতে নামেন শামীম ওসমান। এসময় অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ব্যাবহার করতে দেখা যায় শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের। এসকল অস্ত্র রাইফেল ক্লাব থেকেই নিয়ে আসেন শামীম ওসমান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসকল ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা যায়। আন্দোলনের দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট ক্ষুদ্ধ আন্দোলনকারীরা শহরের রাইফেল ক্লাবে হামলা চালায়। এসময় তারা শামীম ওসমানের ব্যানার, ফেস্টুন ও ছবি ভাংচুর করে। একপর্যায়ে রাইফেল ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেই সাথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শামীম ওসমান দেশ ছাড়েন। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো শহরের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাবটি।