নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলওয়ে স্টেশন। এই স্টেশন থেকে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার, যাতায়াতে সময় লাগে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মিনিট । প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত করতে এই স্টেশন ব্যবহার করেন। স্টেশনের কাছাকাছি কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল ও বাস স্ট্যান্ড থাকায় যাত্রীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ সহজ ও আরামদায়ক। এই যাত্রাকে আরো সহজ করতে দীর্ঘ সময় আটকে ডুয়েলগেজ লাইন প্রকল্পের কাজ আবারো শুরু হয়েছে। দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলেছে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। কাজ সম্পন্ন হলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে প্রতি ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পর কমলাপুরের উদ্দেশ্যে ট্রেন ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম খান।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে চার দফা বাড়ানো হয়েছে, যার সর্বশেষ সময়সীমা চলতি বছরের এই জুনে শেষ হয়ে নতুন করে মেয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শুরুতে মোট ৩৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত ছিল। ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি একনেক সভায় এটি অনুমোদন পায়, যার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল ১২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ডিআরজিএ-সিএফের অনুদান ছিল ২৪৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রাথমিক ৩৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৬৫৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এখন রেলওয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এই প্রকল্পে দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর ২০১৭ সালে কাজ পায় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প এলাকা বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে, কাজ শেষ না করেই ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ প্রকল্প ছেড়ে চলে যায় চীনা প্রতিষ্ঠানটি। তখন পর্যন্ত তারা মাত্র ৪৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছিল।
এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘জিপিটি ইনফ্রাপ্রজেক্ট লিমিটেড’ এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যান্ডার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’-এর যৌথ উদ্যোগে নতুন চুক্তি সই হয়। এই জিপিটি-স্ট্যান্ডার্ড যৌথ উদ্যোগ ২০২৫ সালের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করে।
প্রকল্পের আওতায় জুরাইন লেভেল ক্রসিং গেট থেকে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন পর্যন্ত ২৯ দশমিক ৯১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ২২টি মাইনর সেতু, ৫টি স্টেশন ভবন, ১১টি প্লাটফর্ম ও ১১টি প্লাটফর্ম শেড নির্মাণের কাজ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, চাষাঢ়া, ফতুল্লা, পাগলা ও শ্যামপুর স্টেশন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি ১১টি লেভেল ক্রসিং গেট, নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে একটি ওয়াশপিট, একটি ফুটওভার ব্রিজ এবং কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলকড সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপনের কাজও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বলে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
স্টেশন ও ভবন নির্মাণের অগ্রগতির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ স্টেশন ভবনের সামনের প্লাটফর্ম কাস্টিং, ডরমিটরি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার স্ল্যাব কাস্টিং এবং ইটের কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৭ দশমিক ২০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৩৮ শতাংশ।
তবে সম্প্রতি নতুন করে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন কাজ শুরু করা হয়েছে এবং দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম খান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আগে যে কন্ট্রাকটর ছিলেন তারা যেকোনো কারণবশত চলে যায়। এখন নতুন করে যারা এসেছেন তারা খুব দ্রুত কাজ করছেন। ইতোমধ্যে চাষাঢ়া পর্যন্ত ডাবল লাইন চলে আসছে। কেন্দ্রীয় স্টেশনেও ডাবল লাইন বসানোর জন্য মাটি কেটে বালুর সলিং করা হয়ে গেছে। খুব দ্রুতই কাজ গুলো শেষ হবে। কাজ গুলো সম্পন্ন হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পর ট্রেন আসা যাওয়া করতে পারবে। এতে করে গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ, মদনগঞ্জ সহ অন্যান্য এলাকার লোকজন লঞ্চ থেকে নেমেই খুব সহজে ট্রেনে উঠতে পারবেন।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে একটি লাইন দিয়ে ৮বার আপ ৮বার ডাউন হয়, ডাবল লাইন সম্পন্ন হলে ২০ বার করে আপডাউন করা যাবে। ফলে প্রতি ১৫ থেকে ২০ মিনিট অন্তর অন্তর নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর ট্রেন ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
































আপনার মতামত লিখুন :