নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়ায় আলোচিত সিরিজ বোমা হামলার বিচার ২১ বছরেও শেষ হয়নি। সারা দেশের মত প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জেও ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জঙ্গি সংগঠন জেএমবি কর্তৃক সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আলোচিত সেই মামলার বিচার কার্যক্রম দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চাঁদমারীতে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে দু’টি স্পটে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জে বোমা হামলার ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ওই ঘটনায় তৎকালে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথমাবস্থায় অজ্ঞাতজনদের আসামী করা হয়। পরবর্তীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) দায় স্বীকার করায় এ সংগঠনের প্রধানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৬ সালের ২৯ জানুয়ারি আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ।
এতে অভিযুক্ত ১৪ জন হলেন, জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, সাইফুল্লাহ, আকতার হোসেন, আবুল হোসেন, আতাউর রহমান সানি, তানভীর ওরফে জিয়াউর, ওবায়দা ওরফে জিয়াউল, রবিউল ইসলাম, আরিফুল, ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকার আবদুল আজিজ, আতাউর রহমান, রকিবুল ইসলাম ও মাজু মিয়া।
২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলার প্রথম ৫ জন আসামী শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহর মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। অন্য আসামীরা গ্রেফতার রয়েছে। সম্পূরক চার্জশীটের এক আসামীসহ ১০ জন গ্রেফতার রয়েছে। সিরিজ বোমা হামলা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মো. কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমানকে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই গ্রেফতার করে র্যাব-১১। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই হামলার দায় স্বীকার করে বলে র্যাব জানায়। কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান ফতুল্লার সস্তাপুর কোতোয়ালেরবাগ এলাকার মাওলানা মাহবুবুর রহমানের ছেলে। সে হোসাইন আহমেদ আজমী ছদ্মনামে শিক্ষক হিসেবে রাজশাহীর কাটাখালিতে জামিয়া উসমানীয়া হোসাইনাবাদ মাদ্রাসায় কর্মরত ছিল। সম্পূরক চার্জশীটের আসামী কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলা মামলার অন্যতম আসামী। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায়, তৎকালীন জেএমবির প্রধান শায়েখ মাওলানা আব্দুর রহমানের নির্দেশে তার অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত বোমা হামলায় অংশগ্রহণ করে। জেএমবির প্রধান শায়েখ মাওলানা আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানিসহ গ্রেফতারকৃত ও পলাতক জেএমবির অন্যদের সঙ্গে কেফায়েতুর রহমানের সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়।
আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, সিরিজ বোমা হামলার মামলাটি নারায়ণগঞ্জ ২য় ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মাঝখানে করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে কবে নাগাদ মামলাটির বিচার কাজ সম্পন্ন হবে এ বিষয়ে কেউই সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারছে না।

































আপনার মতামত লিখুন :