নারায়ণগঞ্জ শহরের সিটি পার্ক (সাবেক শেখ রাসেল পার্ক) ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের কাছে। মেয়র আইভী থাকাকালীন সময় পর্যন্ত পুরো পার্ক ছিলো কঠোর নিরাপত্তা চাদরে আবৃত। যেখানে প্রবেশ, বাহির এবং ভেতরের চলাচল সার্বক্ষনিক নজরদাঁড়ি করতো পার্ক কতৃপক্ষ। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর পাল্টে যায় চিত্র।
বর্তমানে পুরো পার্কে দিনরাত ছিনতাইকারীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। একটু ফাঁকা থাকলেই ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের উপর চড়াও হয় ছিনতাইকারীরা। দলবেধে দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনিয়ে নেয় সর্বস্ব। যার একাধিক ভিডিও রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব ঘটনার পরে যেমন উদাসীন প্রশাসন। তেমনি উদাসীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। বিগত দিনে নাসিকের নিজস্ব কর্মীরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও এখন সেই দায়িত্বে যেন কেউই নেই। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘুরতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
সিটি পার্ক নির্মাণ করা হয় নগরবাসির গণপরিসরের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে। যেখানে ভিউইং ডেক, উন্মুক্ত মঞ্চ, বসার স্থান, সুইমিংপুল, হাটার রাস্তা, ফাউন্টেন, ফুটবল মাঠ, রেস্তোরাঁ, পদ্মপুকুর রয়েছে। নগরবাসী বিনামূল্যে এসব সুবিধা ভোগ করতে পারতেন সহজেই। ইউরোপীয় স্টাইলে নির্মিত এই পার্ক নগরবাসী সহ দেওভোগ অঞ্চলের গর্বিত স্মারকে রূপ নেয়। কিন্তু বর্তমানে এই স্থানগুলো হয়ে পড়েছে ছিনতাইকারীদের আস্তানা। ভয়ে অনেক দর্শনার্থী আসছেন না পার্কে।
বেশ কয়েকটি ভিডিও যাচাই করে দেখা গেছে, সাইকেল চালাতে আসা দর্শনার্থী, দূর দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী এবং নারীদের উপস্থিতি দেখলেই সংঘবদ্ধ ভাবে ছিনতাইয়ে নামে চক্রটি। মাদকাসক্ত হওয়ায় অনেককেই আঘাত করে বসে ছিনতাইকারীরা। একাধিক ভিডিও প্রকাশের পরেও প্রশাসনের বিন্দুমাত্র নজরদাঁড়ি নেই। অথচ পুরো পার্কটি শহরের কেবল বিনোদন কেন্দ্রই নয়, এটি রমনা পার্কের মতই শহরের ফুসফুসের মত কাজ করছে।
দেওভোগ অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, হঠাৎ করেই সিটি পার্ককে নিয়ে উদাসীনতা তৈরী হয়েছে নাসিকের। আগের মত নেই রক্ষনাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা। পার্কটিতে আগে মানুষের ঢল নামতো। এখন ছিনতাইকারীদের কারণে এখানে প্রবেশ করার সাহস করেন না অনেকেই। ধীরে ধীরে পর্যটকশূন্য হচ্ছে। যারা এই পার্কের অনিরাপদ দিক সম্পর্কে অবগত নন, তারা ঘুরতে এসে পড়ছেন বিপদে। অর্থ্যাৎ পুরো পার্ককে ঘিরে অভয়ারন্য তৈরী হয়েছে ছিনতাইকারীদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরুরী ভিত্তিতে পার্কে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা প্রয়োজন। সিটি পার্ক এই শহরের কেবল সম্পদই নয়, এই শহরের অন্যতম স্মারকে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের সামনে এই পার্কটি একটি উদাহরণ। এই পার্কের মাধ্যমে নাসিক একাধিক পুরস্কার লাভ করেছে। ফলে এর রক্ষনাবেক্ষনের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
































আপনার মতামত লিখুন :