News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ফুটপাতে শৃঙ্খলা, সড়কে এখনও বিশৃঙ্খলা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম ফুটপাতে শৃঙ্খলা, সড়কে এখনও বিশৃঙ্খলা

দীর্ঘদিনের দখল আর অব্যবস্থাপনায় হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত। কোথাও হকারের পসরা, কোথাও দোকানের বাড়তি অংশ, আবার কোথাও যত্রতত্র পার্কিং সব মিলিয়ে পথচারীদের জন্য ফুটপাত যেন হয়ে উঠেছিল অনিরাপদ এক পথ। বাধ্য হয়ে অনেকেই মূল সড়কে নেমে চলাচল করতেন। এতে একদিকে বাড়ছিল দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে যানজটও ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হওয়ায় সেই চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, নিতাইগঞ্জসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের পর ফুটপাতের বড় একটি অংশ এখন পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত। দীর্ঘদিন পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ পাওয়ায় নগরবাসীর মধ্যেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি।

তবে ফুটপাতের এই শৃঙ্খলা নগরের সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনায় এখনো প্রতিফলিত হয়নি। ফুটপাত অনেকটা ফাঁকা হলেও মূল সড়কে রয়ে গেছে বিশৃঙ্খলা। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি হচ্ছে যানজট।

নগরবাসীর ভাষ্য, ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু শুধু ফুটপাত পরিষ্কার করলেই নগরের যানজট কমবে না। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা, রুট, পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে না আনলে এক সমস্যার জায়গায় আরেক সমস্যা থেকেই যাবে।

বিশেষ করে চাষাঢ়া ও আশপাশের ব্যস্ত সড়কগুলোতে দিনের বিভিন্ন সময়ে অটোরিকশার জটলা চোখে পড়ে। কোনো কোনো জায়গায় যাত্রী পাওয়ার আশায় চালকেরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। পেছনে থাকা যানবাহনগুলো তখন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে ছোট একটি জটই বড় যানজটে পরিণত হয়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন ও ব্যবসায়ীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

এদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ার পর কিছু এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হলেও সেই সুফল ধরে রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নগরবাসীর আশঙ্কা, নিয়মিত নজরদারি না থাকলে উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো আবারও দখল হয়ে যেতে পারে। অতীতেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুদিনের মধ্যে ফুটপাত পুনরায় দখলের ঘটনা ঘটেছে। তাই অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে।

সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও দখলমুক্ত ফুটপাতকে ব্যবহার উপযোগী রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও নতুন টাইলস বসানো হচ্ছে, কোথাও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। ফুটপাত যাতে আবার দখলে চলে না যায়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পথচারীবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে নগরের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা। শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং ব্যস্ত সড়ক ও মোড়ে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

অটোরিকশা খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে এরই মধ্যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। রুটভিত্তিক চলাচল, ডিজিটাল নাম্বার প্লেট, চালকদের পরিচয়পত্র এবং রঙের মাধ্যমে যানবাহন শনাক্তকরণের মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, এসব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। কারণ ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের হাঁটার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার পর এখন প্রয়োজন যানবাহনের চলাচলও নিয়মের মধ্যে আনা। একটি নগরের সৌন্দর্য শুধু পরিষ্কার ফুটপাত কিংবা নতুন টাইলসে নয়; এর সঙ্গে জড়িত নিরাপদ হাঁটা, নির্বিঘœ যান চলাচল এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা।

সচেতন নাগরিকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক একটি সূচনা। কিন্তু এই সুফলকে স্থায়ী করতে হলে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়ককেও শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। অন্যথায় ফুটপাত হয়তো পথচারীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে, কিন্তু সড়কের যানজট ও বিশৃঙ্খলা নগরবাসীর স্বস্তিকে আবারও কেড়ে নেবে।