News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

কদমরসুল সেতু নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশয়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম কদমরসুল সেতু নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশয়

চারারগোপ-একরামপুর দিয়ে নির্মাণাধীন কদমরসুল সেতুর অগ্রগতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেতু কর্তৃপক্ষকে জায়গা হস্তান্তর না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কালীরবাজার চারারগোপ এলাকায় সেতুর পাইল নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের ব্যবসায়ীদের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

এদিকে গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আগামী ২০ দিনের জন্য সেতু নির্মাণ কাজের জন্য রেলওয়ের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি প্রদান করলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাজ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে গত সপ্তাহের রোববার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধি দল সেতুর নির্মাণ স্থলে রেলওয়ের জমি সরেজিমনে পরিদর্শনে আসার কথা থাকলেও তারা আসেনি। ফলে নির্ধারিত ২০দিনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৩দিন অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। এখন পর্যন্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রকার সাড়া না পাওয়ায় সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে সেতুর কাজ বিলম্ব হওয়া থেকে শুরু করে সরকার আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কদমরসুল সেতুর প্রকল্প পরিচালক হরিকিংকর মোহন্ত জানান, আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাজ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। রেলওয়ের জমি বুঝিয়ে না দেওয়ায় আমরা কাজ আগাতে পারছিনা তেমন ভাবে। এমতাবস্থায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। ফলে সেতু নির্মাণ কাজ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে জমি বুঝিয়ে না দিলে নির্মাণ কাজ পুরোপুরি ভাবে বন্ধ রাখতে হবে। এতে করে একদিকে যেমন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে, অন্যদিকে সেতুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কালক্ষেপন হওয়ার পাশাপাশি সময়ের সাথে সাথে এর নির্মাণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্খা তৈরি হবে। ফলে এখন পুরোপুরি সেতুর প্রকল্পটি একটি শঙ্কার মধ্যে পড়ে গেছে।

প্রসঙ্গত,  নির্মাণাধীন কদমরসুল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন প্রয়োজনীয় জমি ২০ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের তাগিদ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী(গ্রেড-১) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বাংলাদেশ রেলওয়ে এর মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হলে সেতুর পরবর্তী নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরের মানুষের কাক্সিক্ষত সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিঠিতে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, "নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫নং গুদারাঘাটের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীর উপর কদমরসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) কাজ চলমান। বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন, এই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য চাহিত ভূমির দখল হস্তান্তর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নিবিঘেœ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অত্যাবশ্যক।

জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৮ মে এলজিইডি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ে এলজিইডির চাহিত জমি হস্তান্তর করবে। ওই জমিতে থাকা স্থাপনার ক্ষতিপূরণ এলজিইডি সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রদান করবে।

তবে স্থাপনার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় জমি হস্তান্তরের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াকে পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার বিষয়টি চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। এলজিইডি বলছে, ভূমির দখল হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের কার্যক্রম একই সঙ্গে করা হলে নির্মাণকাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সেতুর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের পাইল নির্মাণকাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমি ২০ দিনের মধ্যে হস্তান্তর না হলে পরবর্তী নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে ঠিকাদারের কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি উত্থাপনের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নকাল উভয়ের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয় সরকার থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চিঠি প্রদানের করার পর ইতোমধ্যে ১৩দিন অতিবাহিত হয়েছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ চিঠির বিপরীতে কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

উল্লেখ্য, কদমরসুল সেতু নির্মাণ কাজে সদর এবং বন্দরে দুই পাড়েই দিনরাত ২৪ঘণ্টা কাজ চলমান রয়েছে। নদীর দুইপাড়ে মাটির নিচে মোট পাইল সংখ্যা ২৩৭ টি যার ভিতরে সম্পন্ন হয়েছে ১৪৬ টি পাইল। বন্দরে ১০৭ টি পাইলের ভিতর  সবগুলোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন পাইল ক্যাপের কাজ চলমান রয়েছে। সদরে ১০৯টি পাইলের ভিতর ৩৬ টি সম্পূর্ণ হয়েছে ।

৭৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা নির্মিত হচ্ছে দেশের সব থেকে বড় ক্যাবল স্টেড সেতু। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তাবনায় ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায় কদম রসুল সেতুটি। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির মূল অংশ থাকবে নদীর ওপর বিশেষ তার দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায়। যার দৈর্ঘ্য হবে ৩৮০ মিটার। দুই পাশে পথচারীদের চলাচলের জন্য থাকবে ফুটপাত। ২০২৮ সাল নাগাদ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।