News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

খুঁজে পায়না পুলিশ অসহায় নাসিক আগে ছিল শ্রমিকলীগ এখন শ্রমিকদল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম খুঁজে পায়না পুলিশ অসহায় নাসিক আগে ছিল শ্রমিকলীগ এখন শ্রমিকদল

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে হকারদের কাছে যেন অসহায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। বিগত সরকারের আমলে নাসিকের মেয়রসহ উচ্ছেদকারী টিমের উপর প্রাণঘাতি হামলা চালিয়েছিল হকাররা। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়েও ছাত্র জনতার উপরে হামলা চালিয়েছিল হকাররা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও বদলায়নি হকাররা। বরং পট পরিবর্তনের পরেও এখনো বেপরোয়া হকাররা। পূর্বে হকাররা শ্রমিকলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করলেও এখন তারা ব্যবহার করছে শ্রমিকদলের সাইনবোর্ড। ৪ মাস আগে নাসিক কর্তৃপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে হকার উচ্ছেদে নামলেও এখনো শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারেনি। বরং ৪ মাসের ব্যবধানে নাসিকের উচ্ছেদকারী টিমের উপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাড়ে ৩ মাস আগে নাসিকের টিমের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও অদ্যাবধি কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার উঠানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর সিটি করপোরেশনের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা এম এ সাত্তারের দায়েরকৃত মামলার আর্জিতে অভিযোগ করা হয় শামীম ওসমানের কারণেই একদল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলা সহ হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু সদর থানা মামলাটি গ্রহণ করেনি। ২২ মাস ১৮ দিন পর ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় দেয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলাটি শুরুতে সদর মডেল থানা তদন্ত শুরু করেন। পরে পিবিআই এর পরিদর্শক আতাউর রহমান তদন্ত শুরু করে গত ডিসেম্বরে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। চার্জশীটে আওয়ামীলীগ নেতা শাহ নিজাম ও নিয়াজুল সহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকাতে আছেন হকার নেতা রহিম মুন্সী, আসাদুল ইসলাম, সায়মন, ইকবাল, মাসদ পাটোয়ারী, তোফাজ্জল, পলাশ, মহসিন বেপারী, সালাউদ্দিন ও সাদেকুল। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন ঘটনাস্থলের ধারনকৃত ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে ছবিতে উক্ত আসামীদের হাতে পিস্তল দেখা যায়। ১নং আসামী মোঃ নিয়াজুল ইসলাম এর নামীয় পিস্তুলটি লাইসেন্সকৃত। ২নং আসামী শাহ নিজাম এর নামে বন্দুকের লাইসেন্স রয়েছে কিন্তু পিস্তল এর কোন লাইসেন্স নাই। মেয়র আইভী মহোদয়কে হত্যার উদ্দেশ্যে ১ ও ২ নং আসামীরা গুলি করে মর্মে এজাহারে উল্লেখ থাকলেও তদন্তকালে উক্ত সংক্রান্তে কোন আলামত ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তীতেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলায় অভিযুক্ত করা হলেও হকার নেতা রহিম মুন্সি ও আসাদসহ বাকী আসামীদের পুলিশ ৮ বছরেও খুঁজে পায়নি। 

২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বলাকা পেট্রোল পাম্পের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে হকার জুবায়েরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত জুবায়ের মা মুক্তা বাদী হয়ে প্রধান আসামি ইকবাল ওরফে ডাক্তার (৩০), হকার নেতা আসাদ (৪০),স্বপন (৩২), সায়মন (২১), হাসান (১৯), সানী (২৩), রাসেল (২৪), মহসিন (৬০) ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ৬ মে হকার জুবায়ের হত্যা মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দেন আদালত। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের ইকবাল হোসেন, মো. স্বপন, আনোয়ার হোসেন ও সায়মন ওরফে ইউনূস মিয়া। যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন হাসান আল মামুন ও রাসেল হোসেন। তবে তবে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে হকার নেতা আসাদ ও মহসিন খালাস পেয়ে যান। 

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে গডফাদার শামীম ওসমানের নির্দেশে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা হাতে অবস্থান নিয়েছিল ফুটপাত দখলকারী এসব হকাররা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে হকার শ্রমিকলীগ নেতা রহিম মুন্সি ও আসাদসহ কয়েকজন মামলার আসামী হয়ে পলাতক থাকে। তবে কিছুদিনের ব্যবধানে আবারো হকাররা সড়কের ফুটপাত দখল করে নেয়। বহাল থাকে হকার শ্রমিকলীগ নেতা রহিম মুন্সি ও আসাদের দোকানসহ পলাতকদের দোকান। তবে রহিম মুন্সি ও আসাদের স্থান দখল করে নেয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার দলের সভাপতি মিজানুর রহমান রনিসহ কয়েকজন। আর তাদেরকে নেপথ্যে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে মহানগর বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। 
এদিকে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল শহরের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে থাকা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ রাজনৈতিক নেতারাও ছিলেন অভিযানে। তবে গত কয়েকদিনের ব্যবধানেই আবারও ফুটপাত দখলে নেয় হকাররা। গত ৪ মে নাসিকের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় কর্মচারীদের ওপর হামলা করে ফুটপাতের হকাররা। এ সময় দুই কর্মচারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন বলে অভিযোগ করেন নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীরা। ৫ মে হকার উচ্ছেদ অভিযানে নাসিক কর্মীদের ওপর হামলায় ১০ জন হকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নাসিকের আইন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর ৮ জুন আবারো শহরে নাসিকের উচ্ছেদকারী টিমের সঙ্গে হকারদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ ২৪ আগষ্ট সোমবার বিকালে বিবি রোডে হকার উচ্ছেদ করা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে ফের ফুটপাত দখল করে নেয় হকাররা। এ অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নিদের্শে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাকির সুপার মার্কেটের সামনে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় হকাররা সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ টিমের সাথে ধস্তাধস্তি করে জানান উচ্ছেদ টিমের প্রধান সম্রাট হাসান সুজন। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ টিমকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দেন।
তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার দলের সভাপতি মিজানুর রহমান রনি অভিযোগ করে বলেন, গত চার মাস ধরে সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ করেছে, শুধু হকার উচ্ছেদ করে নাই চালিয়েছে স্টিমরোলার। চার মাস ধরে হকারদের বাড়িতে খাবার নেই, তারা দিশেহারা হয়ে গেছে। নাসিক কর্তৃপক্ষ যাদের থেকে পুনর্বাসনের নামে ভোটার আইডি কার্ড নিসে তারা বহিরাগত। সিটি কর্পোরেশনের উচিত ছিলো, হকারদের ডেকে নিয়ে তালিকা নেয়া। রেলওয়ের অনুমতিপত্র নিয়ে আমাদের নতুন স্থানে বসানো হোক। তা না হলে পূনর্বাসনে যাবো না। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন হকারদের পূণবার্সন করে উচ্ছেদ চালাতে।