এ যেনো ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। আড়াই হাজার বর্গ ফিটের ছাদে ড্রাগন ফল চাষের জন্য তৈরি করা হয়েছে স্থায়ী টব। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার। ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করে চমকে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের এক উদ্যোক্তা। বছরে আয় করছেন লাখ টাকারও বেশি।
জানা গেছে, মুফতী আমিনুল ইসলাম পেশায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড খানকা মসজিদের ইমাম ছিলেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মাদরাসার খন্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। এক দশক আগে সৌদিআরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান। দেশে ফিরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদর্শনগর এলাকার মুসাফির টাওয়ারের ১০ তলার ছাদে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন।
মুফতী আমিনুল ইসলাম ছাদ বাগানে ড্রাগন চাষ করছে জৈব পদ্ধতিতে। তার বাগানে ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে ৪৮০টি। ১০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত ভবনে অর্ধেক অংশে তিনি ড্রাগন চাষ করছেন। ড্রাগন চাষের পাশাপাশি বস্তায় আদা, মরিদসহ অন্যান্য শাক সবজিও চাষ করেন। ড্রাগন চাষে বছরে আয় করছেন লাখ টাকারও বেশী। নগর কৃষির বাণিজ্যিক সফলতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এমন উদ্যোগ দেখে বেকার যুবকরা আগ্রহী হবে বলে প্রত্যাশা সকলের।
প্রতিবেশীরা জানান, আমিনুল ইসলামের ছাদ বাগানের ড্রাগন অনেক সুস্বাদু। এছাড়াও তিনি অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন বিধায় এই ড্রাগন আশেপাশের অনেকেই কিনে নিয়ে যান। এছাড়াও ছাদ বাগানে ড্রাগন চাষাবাদ করা গেলে বেকারত্ব দূর হতে পারে। এছাড়া ড্রাগনের চারা উৎপাদন করে তিনি বিক্রি করেন।
উদ্যোক্তা মুফতী আমিনুল ইসলাম জানান, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে
২০২১ সালে দেশে ফিলে ইউটিউবে ড্রাগন ফল চাষাবাদ দেখে আগ্রহী হন। বাণিজ্যিক কোন পরিকল্পনা ছাড়াই ৫ বছর আগে এই ফল চাষ শুরু করেন। বিভিন্ন স্থান থেকে চারা ক্রয় করে বাগান তৈরী করেন। ড্রাগন চাষে বছরে তেমন একটা খরচ হয়না। তিনি শুরুতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছিলেন সেটা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছে ফল আসে। বছরে ছয় থেকে সাতবার পাকা ড্রাগন সংগ্রহ করা যায়। এই ফলের যেহেতু চাহিদা ভালো, বাজারে দামও বেশি তাই আমার প্রয়োজনের অধিক উৎপাদন হওয়ায় বিক্রি করছি এবং ভালো টাকা আয় করছি। নিজেরা খেয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের উপহার দিয়েও বছরে লাখ টাকার উপরে আয় করছেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা হাসনাত জানান, ছাদ বাগানে ড্রাগন চাষ করে সফল হওয়া যায় তার উদহারন মুফতী আমিনুল ইসলাম। ড্রাগন ফলের গাছে রোগ বালাই কম হয়। পরিচর্যা ঠিকমতো করলে এ ফলে চাষী লাভের মুখ দেখবে। কৃষক এ কৃষির মাধ্যমে নিজের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। অন্য কোন ফসলে এতটা লাভবান হওয়া যায় না। আমরা কৃষকদের ছাদ বাগানে উদ্বুদ্ধ করাসহ নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছি।







































আপনার মতামত লিখুন :