নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় হাসপাতাল গুলোতে বেড়েই চলেছে রোগীদের চাপ। নাসিক কর্তৃপক্ষ ২৭টি ওয়ার্ডে শতাধিক হটস্পট চিহ্নিত করে মশক নিধনসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম করছে। তবে সিটি এলাকার বাহিরে উপজেলা পর্যায়েও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা না গেলেও রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। যার মধ্যে এক বছরের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বাসিন্দা দুই গৃহবধু ও রূপগঞ্জে এক ভূমি অফিসের কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৩০০ ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোত প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছে। জুলাই পর্যন্ত ৫ শতাধিক রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হলেও আগস্টে ৭ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির সংখ্যা আরো বেশী। গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সরকারি হিসেবমতে নারায়ণগঞ্জে কোন রোগী মারা যায়নি। তবে বেসরকারি তথ্যমতে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা অনেকেই রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে রূপগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ মারজানুর রহমান জানান। ৫৮ বছর বয়সী আবু ছিদ্দিক রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের চেইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফেনী জেলার বাসিন্দা ছিদ্দিক নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।
সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এরাকায় এক সন্তানের জননী গৃহবধূ আশা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৮ আগষ্ট শুক্রবার আশা বেগম ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়। শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে দ্রুত নারায়ণগঞ্জে খানপুর হাসপাতাল চিকিৎসা শেষে ঢামেকে প্রেরণ করেন। ঢামেকে যাত্রা পথে শনিবার রাত পৌনে ১২টায় মৃত্যু হয় আশা বেগমের। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দর থানার ২১ নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকার ইমতিয়াজ আহমেদ টনি মিয়ার মেয়ে।
এর ১০ দিন আগে ডেঙ্গু জ¦র নিয়ে সাইনবোর্ড প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে ভর্তি হন দুই সন্তানের জননী কামরুন নেছা। তিনি ২১ নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী। ১৭ আগষ্ট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উল্লেখিত হাসপাতালে ভর্তি হন গৃহবধূ। ১৯ আগস্ট রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ২৭টি ওয়ার্ডে ডোবা নালাসহ শতাধিক হটস্পট চিহ্নিত করেছে। সেসব স্থানে মশক নিধনে ওষুধ ছিটানো নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে দাবি নাসিক কর্তৃপক্ষের। তবে সেটা পর্যাপ্ত নয় বলছে ভুক্তভোগীরা। নারায়ণগঞ্জ সিটির বাহিরেও রয়েছে অসংখ্য ময়লার ভাগাড়। গ্রামাঞ্চলেও ডোবা নালা ড্রেনগুলোতে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে এডিস মশার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ও তাদের স্বজনরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ডোবা নালা পরিত্যক্ত স্থান অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন হওয়ায় মশার উপদ্রব। তাদের এলাকার অনেক রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সিটি করপোরেশনসহ উপজেলা পর্যায়ে মশার ওষুধ ছিটানোর পরিমান অনেক কম। মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে ঔষধ প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার উদ্যোগ নিবে এই প্রত্যাশা সকলের।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবুল বাশার জানান, তাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও অন্যান্য উপাদান পর্যাপ্ত রয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে থাকে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। ৯০ শতাংশ রোগীই হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেন। তাই সকলের প্রতি আহবান জানাবো রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যাতে কোন ধরনের ওষুধ না খান।








































আপনার মতামত লিখুন :