নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ খন্দকারের বড় ভাই অদুদ খন্দকার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি নুরুজ্জামান মোল্লাকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামগড় ইউনিয়নের কামতাল এলাকা থেকে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল-আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত নুরুজ্জামান মোল্লা কামতাল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বিগত ২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টায় অদুদ খন্দকার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই সময় মাসুম আহম্মেদের নেতৃত্বে আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত জাহিদুল খন্দকার ও তার ভাই মাসুদ রানাকে খুঁজতে থাকে। তাদের না পেয়ে অদুদ খন্দকারকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে চোখ বেঁধে একটি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহিদুল ও মাসুদ রানার অবস্থান বলতে না পারায় মাসুম আহম্মেদের নির্দেশে নুরুজ্জামান চাপাতি দিয়ে অদুদ খন্দকারের পায়ে কোপ দেয় এবং অভিযুক্ত হাতেম চাকু দিয়ে তার পায়ের গোড়ালির মাংস কেটে গুরুতর জখম করে।
পরবর্তীতে অদুদ খন্দকারকে বন্দর থানার এক মামলায় অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। জেলের ভেতর চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে মদনপুর বারাকা হাসপাতাল ও পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি মারা যান।
অদুদ খন্দকার হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান ছাড়া অন্যান্য উল্লিখিত আসামিরা হলেনÑ বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আহম্মেদ (৫০), ধামগড় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার শফিউদ্দিন মুক্তার হোসেন (৪০), মো. রাসেল (৪৪), মো. হাতেম (৫৫), আজিজ দেওয়ান ভেন্ডার (৪৫), মো. সোহেল (৩২), জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু (৬০), মিজানুর রহমান (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জন।
ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী ও ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ খন্দকার জানান, "ঘটনার প্রায় দুই বছর পর অন্যতম মূল আসামি নুরুজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ায় বন্দর থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"
বন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুজ্জামান মোল্লাকে আজ ২৫ আগস্ট দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


































আপনার মতামত লিখুন :