News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্ল্যাকমেইলারের শেষ ঠিকানা ফাঁসির দড়ি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম ব্ল্যাকমেইলারের শেষ ঠিকানা ফাঁসির দড়ি

‘মনিরুজ্জামান রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জু’। চিহ্নিত ব্ল্যাকমেইলার হিসেবে পুলিশের খাতায় অপরাধী। বিভিন্ন উঠতি ব্যবসায়ীদেরকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যুবতী মেয়েদের সঙ্গে জোর করে আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলিং করে আদায় করতো লাখ লাখ টাকা।

রঞ্জু বাহিনীর এমন কর্মকা- সহ অন্য অনৈতিক কাজে সহযোগিতা না করায় নির্মম বলি হয়েছেন জামাল হোসেন নামের একজন সিএনজি অটো রিকশা চালক। তাকে নৃংশসভাবে হত্যা করেছে রঞ্জু ও বাহিনীর লোকজন। ২০১১ সালের জুলাইতে উদ্ধার করা জামালের লাশ। ২৪ আগস্ট সোমবার ওই মামলায় রঞ্জুরে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। তবে পলাতক ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রঞ্জু গালে প্লাস্টিক সার্জারী করে রূপ বদলেছে।

রঞ্জুর সঙ্গে জামালের সম্পর্কে স্ত্রী সখিনা বেগম জানান, ২০১১ সালের শুরুতে সিএনজিতে করে এক জায়গায় ভাড়া নিয়ে যাওয়ার কারণে রঞ্জুর সঙ্গে জামালের পরিচয় ঘটে। পরে কয়েকবার রঞ্জুকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়েছে জামাল। কিন্তু রঞ্জুর এসব অপকর্মের খবর ফাঁস হওয়ার পর রঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় জামাল। রঞ্জু ফোন করে কোথাও যেতে বললেও নিষেধ করতো জামাল। এ কারণে তাকে ফোন করে গালাগাল ও হুমকিও দিত। জামাল হোসেনকে হাত পা বেধেঁ কুপিয়ে ও গলা কেটে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় পরে তার লাশ লাশ বস্তায় ভরে শহরের প্রেসিডেন্ট রোড এলাকায় একটি পরিত্যক্ত স্থানে মাটিচাপা দিয়ে উপরে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।


মনিরুজ্জামান রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জু। তার ডান গালটি ছোট গাল ছোটকালেই ঝলসে গিয়ে লালচেঁ রং ধারণ করে। এ কারণেই তাকে সকলে ডাকে ‘গালপোড়া রঞ্জু’ হিসেবে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুগত হয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সে শুরু করে নতুন মিশন। গড়ে তোলে বিশাল একটি চক্র। তাদের কাজ হলো বিভিন্নজনকে ব্ল্যাকমেইলিং করে টাকা কামানো।

২০১০ সালের ১১মার্চ রঞ্জু নারায়ণগঞ্জ আদালতের ১ম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দী দেয়। উক্ত জবানবন্দীতে সে জানায়, তাদের দলে ১৩ সদস্য রয়েছে। এদের মধ্যে ৭ মহিলা। এরা কলগার্ল। তারা প্রথমে ব্যবসায়িদের টার্গেট করে নানা কৌশলে টোপ ফেলা হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ি ওই ব্যবসায়িকে ডেকে নিয়ে আসা হয় শহরের যে কোন একটি ফ্ল্যাটে। তার পর তরুণীটি বিবস্ত্র হয়ে ব্যবসায়ীকে জড়িয়ে ধরে। এ সময় প্রতারকচক্রের অন্য সদস্যরা কৌশলে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে ফেলে। পরে প্রতারক চক্রটি ব্যবসায়ির সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসহ সব কিছু কেড়ে নেয়া হয়। প্রতারক চক্রটি ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। অন্যথায় এসব ছবি পত্রিকায় প্রকাশসহ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এভাবে প্রতারক চক্রটি গত ১২ মাসে ১৫টি ঘটনা ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসায়ির কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

প্রতারক চক্রটি প্রতারণার শিকার একেক ব্যবসায়ির কাছ থেকে কয়েকদফায় টাকা আদায় করে। প্রতারক চক্রটি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে। ব্যবসায়িদের কাছ থেকে দাবিকৃত টাকা আদায় করতে তারা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে। প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য মমিন ও তার স্ত্রী লিজা ওরফে কনা। লিজা ওরফে কনা মহিলা দলের নেতা। মমিন ব্যবসায়িদের টার্গেট করে। রঞ্জু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ছবি পত্রিকাসহ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। 

ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী শহরের বালুর মাঠ এলাকায় ২ মেয়ে দিয়ে উলঙ্গ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলিং করতে গিয়ে রঞ্জু ধরা পরে। এছাড়া আরো কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় রঞ্জু।

প্রতারক রঞ্জু বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতার নাম ব্যবহার করছে। কিন্তু কারো সঙ্গে নেই তার কোন সম্পর্ক।