নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়রা আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ নিয়ে আদালতপাড়া আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা যেন থামছে না। আনইজীবীরা কোনোভাবেই নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না। নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নিজের নিরাপত্তা শঙ্কায় আদালতে প্রবেশ করছেন না।
সেই সাথে গত কয়েকদিন ধরেই পাবলিক প্রসিকিউটরের কক্ষে তালা ঝুলছে। আগের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লাও বসতে পারছেন না এবং নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকেও বসতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে আদালতের বিচারকি কার্যক্রম চলছে অন্য আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর দিয়ে। আর শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সমাধান হয় সেটাই পরিলক্ষিত বিয়ষ।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ আদালতের অন্য আইনজীবীকে পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে কোনোভাবেই পিপি হিসেবে থাকতে পারবেন না। তার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বাতিল করার ব্যাপারে আলোচনা রয়েছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়রা আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৫ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিন আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া।
তার নাম দেখার পর থেকেই আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সকল জায়গাতেই নেতিতবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন আইনজীবীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে নিয়ে নেতিবাচক স্ট্যাটাস দিতে থাকেন।
তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতেও পুরো সময়জুড়েই আইনজীবীরা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এদিন সকালেই আইনজীবীরা নারায়ণগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের কাছে গিয়ে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে যেন নিয়োগ না দেয়া হয় সে ব্যাপারে অভিযোগ করে আসেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ আদালতে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। সেই দিন এদিন তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় পাওয়া গেলে প্রতিহত করারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আইনজীবীরা।
তবে এদিন নারায়ণগঞ্জ আদালতে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে দেখা যায়নি। কিন্তু তাকে আদালতে না পাওয়া গেলেও আইনজীবীদের মুখে মুখে ছিলো নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়ার নিয়োগ ইস্যু। আইনজীবীরা পুরো আদালত প্রাঙ্গনজুড়েই তাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। আইনজীবীদের দাবীর প্রেক্ষিতে তাকে আইনজীবী সমিতি থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সুমন মিয়া সম্পর্কে আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামীলীগের প্রয়াত আইনজীবী সুলতানুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘদিন আইনজীবী সহকারী অর্থাৎ মুহুরী হিসেবে কাজ করতেন সুমন মিয়া। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে সকল সিনিয়র আইনজীবীদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে বারের মুহুরী আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করবেন তাকে এই বারে আইনজীবী হিসেবে সদস্য পদ দেয়া হবে না।
সেই হিসেবে মুহুরী সুমন মিয়া ২০১৪ সালে আইনজীবী হলেও তাকে নারায়ণগঞ্জ বারে সদস্য পদ দেয়া হয়নি। সুলতানুজ্জামানের মুহুরী থেকে আইনজীবী হওয়ার সুবাধে এই বারেই সদস্য পদ ছাড়াই আইন পেশা চালিয়ে আসছিল সুমন মিয়া। একই সঙ্গে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে মিটিং মিছিল করেও আওয়ামীলীগের আমলে নিজের সদস্য পদ নিতে পারেননি সুমন মিয়া। একই সঙ্গে শরীয়তপুরের সন্তান সুমন মিয়া ভিন্ন জেলার হওয়ার কারনেও তাকে সদস্য পদ দেয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট পরবর্তীতে সুমন মিয়া নিজেকে বিএনপিকে বানিয়ে ফেলেন। বিএনপির আইনজীবীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে আওয়ামীলীগের আইনজীবীদের গালিগালাজ করতে থাকেন, কোর্টে বিভিন্ন আওয়ামীলীগ আইনজীবীদের চেম্বারে বিএনপির আইনজীবীদের সঙ্গে হানা দিতেও দেখা যায়। হঠাৎ করেই যেন সাচ্চা বিএনপি হয়ে যান সুমন মিয়া। সেই সাথে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদও নিয়ে নেন। তবে আইনজীবী সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ তিনি তথ্য গোপন করে সদস্য হয়েছেন।
আর সেই তথ্য গোপনের অভিযোগ তার সদস্যপদ বাতিলের ব্যাপারে আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। একই সাথে তাতে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দিবে না বলেও ঘোষণা দিচ্ছেন।







































আপনার মতামত লিখুন :