নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা শয়তানের নিঃশ্বাস নামে প্রতারক চক্র। এই ‘শয়তানের নিশ্বাস’ দিয়ে মানুষকে হিপনোটাইজ বা বশ করা হয়। আর একবার বশ করতে পারলে অপরাধীরা হাতিয়ে নেয় ব্যক্তির মূল্যবান জিনিসপত্র। রোববার সকালে ওই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে এক নারী তার হাতে থাকা আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণের বালা খুইয়েছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে স্কোপোলামিন বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা শয়তানের নিঃশ্বাস নামে পরিচিত একটি ভয়ংকর প্রতারক চক্র। এই শয়তানের নিঃশ্বাস নামের কেমিক্যাল মুহূর্তেই মানুষের বিচারবুদ্ধি ও শরীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলে এই ড্রাগ ব্যবহার করে পথচারীকে বশীভূত করে লুটে নিচ্ছে। সচেতনতা না থাকলে মুহূর্তেই কেউ হয়ে উঠতে পারে এই ড্রাগের শিকার।
তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিবি রোডে অবস্থিত প্রিপারেটরী স্কুলের সামনে। রোববার সকাল ৯টার দিকে শহরের চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা হাসানুর রহমানের স্ত্রী রহিমা আক্তার পারুল শহরের উকিলপাড়া এলাকা থেকে সবজি ক্রয় করে চাষাঢ়ার দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে বিবি রোডের প্রিপারেটরী স্কুলের সামনে শয়তানের নিঃশ^াস প্রতারক চক্রের এক নারী ও দুইজন পুরুষ শয়তানের নিঃশ্বাস তার নাকের সামনে ছেড়ে তার হাতে থাকা একজোড়া স্বর্ণের বালা যাহার ওজন আড়াই ভরি যাহার বাজার মূল্য অনুমান ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা ও সাথে থাকা নগদ ৩৫০/-(তিনশত পঞ্চাশ) টাকা নিয়া বিবাদীরা চলে যায়। পরবর্তীতে তার জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি শুধু পাশে তার সবজিগুলো পড়ে থাকতে দেখি এবং প্রতারক চক্র কৌশলে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার এসআই ফিরোজ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, স্কোপোলামিন বা শয়তানের নিঃশ্বাস মূলত ধুতরা ফুলসহ নাইটশেড পরিবারের কিছু গাছ থেকে পাওয়া একটি অ্যালকালয়েড। চিকিৎসায় বমি, মোশন সিকনেস বা অপারেশনের পর রোগীর ব্যথা কমাতে অতি অল্প মাত্রায় ব্যবহৃত হলেও, অপরাধীরা এটি গুঁড়ো বা তরল রূপে মানুষের মুখের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বা কোনো কাগজ/ভিজিটিং কার্ডে লাগিয়ে শুঁকিয়ে প্রতারণা করে থাকে।
শ্বাসের সঙ্গে এই পদার্থ নাক দিয়ে ঢুকলে ৫-১০ মিনিটের মধ্যেই ব্যক্তির স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী স্বাভাবিক চিন্তা-শক্তি হারিয়ে অপরাধীর কথামতো কাজ করেন এমনকি নিজের গয়না, মোবাইল বা টাকা নিজ হাতে তুলে দেন। পরে বেশিরভাগই ঘটনার কিছুই মনে রাখতে পারেন না।
এর আগে নারায়ণগঞ্জে ২০২৩ সালের একটি হত্যা মামলার তদন্তে এই কেমিক্যাল প্রথম উদ্ধার হয়। সিআইডির পরীক্ষায় বোতলভর্তি সাদা পাউডারের মধ্যে স্কোপোলামিন শনাক্ত করা হয়।
অপরাধীরা যেভাবে ফাঁদে ফেলে : ঠিকানা পড়তে দিয়ে কাগজে লাগানো পাউডার শুঁকিয়ে দেওয়া, হাত মেলানোর সময় হাতে পাউডার লাগানো, গাড়িতে লিফট নেওয়ার প্রলোভন, দোকান বা রাস্তায় কার্ড/কাপড় ‘ঘ্রাণ’ নিতে বলা, ব্যাগ বা মোবাইলে গুঁড়ো লাগানো। এতে ভুক্তভোগী মুহূর্তেই অলস, দিশাহীন ও অচেতনসদৃশ হয়ে পড়ে।
তাই নিজেকে বাঁচাতে সচেতন থাকার বিকল্প নেই। অপরিচিত কেউ ঠিকানা পড়তে দিলে বা কাগজ/কার্ড শোঁকাতে চাইলে সতর্ক হোন। রাস্তায় কেউ টোকা দিলে বা কিছু ধরাতে চাইলে পেছনে সরে যান। যদি হঠাৎ মাথা ঘোরা, ঘোর লাগা, দিশাহীনতা, চোখ ঝাপসা লাগা বা শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি হয় দ্রুত খোলা জায়গায় যান। কাছের মানুষকে ফোন করুন ও পানি পান করুন। এসময় একা না থাকা উত্তম। সমস্যায় পড়লে নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত মনে হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।




































আপনার মতামত লিখুন :