নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত সিটি পার্ক (সাবেক শেখ রাসেল পার্ক) নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ৫ আগস্টের পর থেকে পুরো পার্ক অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার পর অনেকটাই জনপ্রিয়তা কমেছে পার্কের। অথচ আগে নিরাপদে নির্বিঘেœ এখানে সময় কাটাতে পারতেন সকলে। নতুন সংস্কারের পর বাড়তি কর্মী নিয়োগ এবং এখান থেকে আয়ের উৎস বের করবে সিটি করপোরেশন।
সাম্প্রতিককালে সিটি পার্ক ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার একাধিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই সাথে একাধিক ভুক্তভোগীও নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। এক দুইজন ছিনতাইকারী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুতই জামিন নিয়ে ফের অপরাধ কার্যক্রমে ফিরে আসে।
এমন অবস্থায় সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। বিগত সময়ে সাবেক মেয়র আইভীর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এই পার্ক নির্মান হওয়ায় তিনি বেশ কিছু জনবল নিয়োগ করেছিলেন পুরো পার্কের নিরাপত্তার জন্য। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যা একেবারেই ভেঙ্গে পড়ে। বর্তমানে নিরাপত্তারক্ষী ও গার্ডরা নিজেরাই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘সিটি পার্কের নিরাপত্তা জোড়দারের কথা আমরা ভাবছি। তার আগে এখানে আমাদের রাইডস বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সাথে লেকে নৌকা নামানো হবে। এসব কাজ সম্পন্ন হবার পর পুরো পার্কে বাউন্ডারি দেয়া হবে যেন বাইরে থেকে অনুপ্রবেশ কেউ করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি আমাকে জানিয়েছে সেখানকার নিরাপত্তা প্রহরীকেই চাকু দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছে ছিনতাইকারীরা। বিষয়গুলো আমরা আমলে নিচ্ছি। তাছাড়া বর্তমান এসপি যেভাবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন। তাতে আমরা মনে করি আগামী ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে পুরো শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এই ছিনতাইকারী আর মাদকসেবীদের আনাগোনা আর দেখা যাবে না। সেই সাথে আমাদের নিজস্ব উদ্যোগও নেয়া হবে।’
সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে সিটি পার্ক পুরোটাই গণপরিসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর একটি অংশের মাধ্যমে আয়ের ব্যবস্থা করে সেই আয় দিয়েই এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে এগুলো এখনও প্রস্তাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমনও হতে পারে রাইডস গুলো হবে উন্মুক্ত। সকলের জন্য ব্যবহারের উপযোগী। যেখানে দর্শনার্থীদের বাড়তি খরচ করতে হবে না। বিষয়গুলো নানান প্রস্তাবনা এবং সমীক্ষা শেষে চূড়ান্ত করা হবে।

























-20260912144331.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :