‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ খ্যাত নারায়ণগঞ্জের বুকজুড়ে বহমান ঐতিহাসিক রূপালী নদী শীতলক্ষ্যা। যার তীরে একদা গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ বন্দর-সভ্যতা, প্রাচীন বস্ত্রশিল্প আর মোঘল-ব্রিটিশ বাণিজ্যের স্মৃতিময় ইতিহাস। হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা এবং শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের স্মৃতিঘেরা সেই মায়াবতী নদী আজ চরম দখল, দূষণ ও নাব্যতা হ্রাসের শিকার।
শীতলক্ষ্যার এই বিদীর্ণ কান্না আর অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান নিয়ে নির্মিত হয়েছে গান ‘শীতলক্ষ্যার জল, কেন বোবা অশ্রুজল’।
এ গানের ওপর ভিত্তি করেই সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন লোকেশনে এই সচেতনতামূলক মিউজিক্যাল ফিল্মের ভিডিও চিত্রধারণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্পাদনা শেষে গান ও মিউজিক্যাল ফিল্মটি আন্তর্জাতিকভাবে খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবে।
গানটির গীতরচনা ও প্রযোজনায় রয়েছেন কবি ও সাংবাদিক দর্পণ কবীর। এর সুর, সঙ্গীত আয়োজন ও কণ্ঠ দিয়েছেন এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক জাহিদ নিরব। মিউজিক্যাল ফিল্মটির মূল গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন নির্মাতা অরিন্দম পাল ঝিনুক। প্রবাসে থেকেই নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে নেপথ্যে নিরলসভাবে কাজ করেছেন শিল্পী, অভিনেতা ও নির্মাতা শোয়েব মনির। এছাড়া সচেতনতামূলক এই মিউজিক্যাল ফিল্মটি নির্মাণের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সহযোগী প্রযোজক আসাদুজ্জামান রিপন।
দুই দিনব্যাপী শুটিংয়ে অর্ধশতাধিক কলাকুশলী ও অভিনয়শিল্পী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। চিত্রগ্রহণে (ডিওপি) ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির চিশতী, ড্রোন পরিচালনায় শামীম, প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তুষার রহমান এবং প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টে ছিলেন আহমেদ বাদশা।
এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দ্বীপ বাপ্পী, ঈষীকা শিঞ্জন ষড়জ, জুলহাস সরকার, দিপু মাহমুদ, পরিতোষ সাহা, মনীষা মনি, আলী সাধু রানা, রুমি রহমান, মেঘ, আহমেদ মিয়া, শুভ কবিরাজ, রাজীব খান, অভিজিৎ দাস উৎস, তামান্না মেহেরুন, মৌরিন শেখ, রবি বাউল, প্রসেনজিৎ দাস, সৌম্য, তুষার রহমান ও আহমেদ বাদশা। পাশাপাশি মিউজিক্যাল ফিল্মটিতে নৃত্য পরিবেশন করেছেন হাসিবুর সিয়াম ও কায়নাথ বিনতে কবির।
প্রজেক্টটির পটভূমি প্রকাশ করে প্রযোজক, কবি ও সাংবাদিক দর্পণ কবীর বলেন, শীতলক্ষ্যা শুধু একটি নদী নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক প্রতীক। আমাদের শৈশব-কৈশোরের সোনালী স্মৃতির নদীটি আজ যখন অস্তিত্ব সংকটে, তখন সচেতন মানুষ হিসেবে তা দেখে চুপ থাকা যায় না। তাই ‘শীতলক্ষ্যার জল, কেন বোবা অশ্রুজল’ গানটিকে দূষণ ও দখলের বিরুদ্ধে আমাদের শৈল্পিক প্রতিবাদ হিসেবে দর্শক ও শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে চাই।
প্রবাস থেকে নির্বাহী প্রযোজক শোয়েব মনির অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই নির্মিত এই মিউজিক্যাল ফিল্মটি, যা আমাদের শীতলক্ষ্যাসহ সকল নদী রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।
মিউজিক্যাল ফিল্মটি প্রসঙ্গে এর পরিচালক অরিন্দম পাল ঝিনুক বলেন, ঐতিহাসিক গৌরবের শীতলক্ষ্যা কীভাবে আজ কালো জলরাশি ও দূষণের বিষাক্ততায় পরিণত হয়েছে, তা সৃজনশীলতা দিয়ে গানের সুর ও ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
মিউজিক্যাল ফিল্মটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই শীতলক্ষ্যাসহ দেশের সকল নদীকে বাঁচাতে এবং দখল-দূষণ মুক্ত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।






























-20260912144331.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :