News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

উচ্ছেদেও থামছে না ফুটপাত দখল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম উচ্ছেদেও থামছে না ফুটপাত দখল

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন। উচ্ছেদ করা হয় দোকানের সামনের অস্থায়ী স্থাপনা, সরিয়ে দেওয়া হয় হকারদের। কিছু সময়ের জন্য পথচারীদের চলাচলের পথও ফিরে আসে স্বাভাবিক অবস্থায়। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই অনেক জায়গায় আবারও বসে দোকান, পসরা নিয়ে দাঁড়িয়ে যান হকাররা। ধীরে ধীরে আগের চেহারায় ফিরে যায় ফুটপাত।

শহরের চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, কালীরবাজার, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি, নিতাইগঞ্জসহ ব্যস্ত এলাকা গুলোতে ফুটপাত দখলের চিত্র দীর্ঘদিনের। কোথাও দোকানের পণ্য ফুটপাত পর্যন্ত ছড়িয়ে রাখা হচ্ছে, কোথাও অস্থায়ী টেবিল-চেয়ার বসিয়ে ব্যবসা চলছে। আবার কোথাও হকাররা দিনের বড় একটা সময় ফুটপাত দখল করে রাখছেন। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে নামতে হচ্ছে মূল সড়কে।

ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের এভাবে চলাচল শুধু দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, তৈরি করছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল-কলেজ ছুটির সময়ে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের অংশেও মানুষের চাপ বাড়ে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যানজটও তৈরি হয়।

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হলে ব্যবসায়ী ও হকারদের অনেকেই সাময়িকভাবে সরে যান। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পর একই জায়গায় আবারও ফিরে আসার অভিযোগ রয়েছে। অভিযান চালিয়ে ফুটপাত খালি করা হলেও সেটি ধরে রাখার ব্যবস্থা কেন হচ্ছে না এমনই প্রশ্ন নগরবাসীর।

নগরবাসীর একটি অংশ বলছে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত দখল করে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট হকার জোন এবং নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনায় যারা জায়গা দিচ্ছেন বা কোনোভাবে সহযোগিতা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের সঙ্গে তাদের ব্যবসার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ছোট ব্যবসায়ী ও হকারের জীবিকা এ কাজের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে তারা আয়-রোজগারের পথ হারান। তাই তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে শুধু উচ্ছেদ করলে কিছুদিন পর একই পরিস্থিতি ফিরে আসা স্বাভাবিক।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত মূলত পথচারীদের জন্য। সেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকলে পথচারীর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে একই সঙ্গে নগরের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করাও জরুরি। এতে একদিকে পথচারীদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকাও পুরোপুরি বন্ধ হবে না।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নিয়মিত ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। একবার অভিযান চালিয়ে ফুটপাত খালি করে দেওয়ার পর সেখানে নজরদারি না থাকলে দখলদাররা আবার ফিরে আসেন। ফলে সরকারি অর্থ ও জনবল ব্যয় করে পরিচালিত অভিযানও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ফল দিচ্ছে না।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দেখা যায়, একটি অংশে ফুটপাত তুলনামূলকভাবে খালি থাকলেও কিছু দূর এগোলেই শুরু হচ্ছে দখল। কোথাও দোকানের মালামাল, কোথাও খাবারের দোকান, আবার কোথাও পোশাক ও জুতার পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ফুটপাতের নির্ধারিত ব্যবহার কার্যত হারিয়ে যাচ্ছে।

নগরবাসীর দাবি, ফুটপাত নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। কোন এলাকায় কতটুকু ফুটপাত পথচারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, কোথায় হকারদের বসার সুযোগ থাকবে এবং কোথায় কোনো ধরনের ব্যবসা চলবে না এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত থাকা দরকার। পাশাপাশি অভিযান পরিচালনার পর নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে কোনো উদ্যোগই স্থায়ী হবে না।

ফুটপাত দখলমুক্ত করা শুধু হকার উচ্ছেদের বিষয় নয় এটি নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক অধিকারেরও বিষয়। পথচারীদের নিরাপদে হাঁটার জায়গা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি ফুটপাতনির্ভর মানুষের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অভিযান চলবে, ফুটপাত খালি হবে, আর কিছুদিন পর আবারও ফিরে আসবে সেই পুরোনো দখলের চিত্র।