নারায়ণগঞ্জ শহরের নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে হোসিয়ারী সমিতি মিলনায়তনে বসেই শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য দিয়েছে সাকিব সরকার দিমুন ওরফে ধিমন। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে নরসিংদী হতে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এর আগে হোসিয়ারি সমিতির ভেতর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করে ডিবি।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় হকার্স মার্কেটের পেছনে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শুভ দাসকে। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা হকার্স মার্কেটের পেছনে অবস্থিত দূর্গা মহলের সামনে থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকা-ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
শুভ দাসকে হত্যাকারী মূল মাস্টার মাইন্ড অনিক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনিকের সাথে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে অনিকের ঘনিষ্ট ছবি বেরিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে অনিক আমলাপাড়া সহ আশে পাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছিলো।
অনিকের সাথে টিপুর ছবি ভাইরাল হওয়ার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তবে কি অনিকের সেই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু কিনা। এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাওয়ার মধ্যেই নতুন করে আরো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুভ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযোগ হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
হোসিয়ারি সমিতি মিলনায়তনের অফিস নিয়ন্ত্রন নিয়ে হোসিয়ারি এসোসিয়েশন এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিন ধরে। হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের নেতারা দফায় দফায় ডিসি ও বিদায়ী এসপির সাথে বৈঠক করে এই মিলনায়তন উদ্ধারের জন্য সহযোগীতা চেয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তাদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। নানা সময়ে বক্তব্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা ছড়ালেও পুরো হোসিয়ারি মিলনায়তনকে ঘাটি বানাতে সক্ষম হয়েছেন টিপু।
কিন্তু টিপুর নিয়ন্ত্রণে এই মিলনায়তন টর্চার সেল ও অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হবার অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের মার্চে হোসিয়ারি সমিতি মিলনায়তনে তুলে নিয়ে হাছিবুর রহমান শুভ নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিলো টিপুর বিরুদ্ধে। এরপর তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সেই ব্যবসায়ী। ঘটনার পর পুলিশের কাছে দ্বারস্থ হলেও কোন সহযোগীতা পাননি বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শুভ বলেন, ‘আমি আমলাপাড়া রাস্তায় মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম। টিপুর অনুসারীরা আমাকে মারধর শুরু করে। আমাকে তুলে হোসিয়ারি সমিতিতে নিয়ে টিপু সহ তাঁর অনুসারীরা আমাকে মারধর করে। কয়েকদিন আগে আমি টিপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করে মিছিল করার কারণে আমাকে নির্যাতন করা হয়। আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বলতে বাধ্য করায় যে ‘টিপু কোন চাঁদাবাজি করেনি’।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দরা পুলিশ সুপার বরাবর টিপুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে বলেন, ‘আবু আল ইউসুফ খান টিপু রাজনৈতিক পদ পদবী ব্যবহার করে অফিস কক্ষ দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি সাধারণ জনগনকে ধরে এনে মারধর, ভয়ভীতি সহ নানান অনৈতিক ও অবৈধ কার্যকলাপ চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
নতুন করে ১০ সেপ্টেম্বর ফের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দরা। এবার টিপুর বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ দেয়ার পাশাপাশি উল্লেখ করেন, পুরো মিলনায়তন সন্ত্রাসীদের ডেরা হয়ে উঠেছে। এখানে অপরাধীদের অবাধ বিচরণ, মারধর, ভয়ভীতি দেখানো এবং অনৈতিক ও অপরাধ মূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ইতিপুর্বেও এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এনসিসিআই এর কাছে লিখিত ভাবে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। এমন অবস্থায় স্থাপনা থেকে রাজনৈতিক ব্যবহার মুক্ত, আইনবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি ভবনকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের সংঘাত না তৈরী হয় সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।’
এদিকে টিপু দাবী করেছেন তিনি কোন দখল করেনি। মিলনায়তন যারা চালায় তাদের একটি অফিস কক্ষ আছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে বসে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
টিপু বলেন, আমি অফিসে বসে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলি এতটুকুই।

























-20260912144331.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :