স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচন করবে এমন বার্তা দিয়ে আসছে শুরু থেকেই। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি ও জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় অদৃশ্য কিংবা প্রকাশ্য আপোষ করতে পারে দলগুলো। এতে করে প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা যেমন বাড়বে, তেমনি নির্বাচন পরিচালনা করতে সুবিধা হবে সকলের।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। তবে এই পদে এনসিপি এখন পর্যন্ত কাউকে চুড়ান্ত করতে পারেনি। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী এই পদে লড়তে আগ্রহী হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি এনসিপি। ধারনা করা হচ্ছে, দুজনের কেউই জয় ছিনিয়ে আনার মত প্রার্থী নন। তবে নিজেদের রাজনীতি ধরে রাখতে এই পদে কাউকে না কাউকে মনোনয়ন দিবে এনসিপি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসিকের ২৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ১৯ টি ওয়ার্ডে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। বাকি ওয়ার্ডে নিজেদের প্রার্থী খুঁজছে তারা। তবে ঘোষিত সকল প্রার্থীই যে জয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবেন এমন নয়। বরং এদের অনেকেই একেবাইরে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত। অন্যদিকে এনসিপি সিটি করপোরেশনের ৫/৬ টি ওয়ার্ডে নিজেদের প্রার্থী প্রস্তুত করেছেন। যার ফলে একই ওয়ার্ডে জামায়াত এবং এনসিপি উভয় দলেরই প্রার্থী দেখা দিয়েছে।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, জটিলতা এড়াতে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে ১১ দলীয় জোট। প্রার্থীদের মধ্যে যে যেখানে বেশি শক্তিশালী ও শক্ত অবস্থাবে আছে তাকে সেখানে ছাড় দেয়া। একই সাথে নির্বাচন কেবল সিটি করপোরেশনেই সীমাবদ্ধ থাকছেনা। এর বাইরে ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদেও নির্বাচন হবে। সবখানেই শক্ত প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে জোটের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেয়াই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, সমঝোতার বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে ভোটার ও কর্মী সমর্থকরা কিছুটা বিভ্রান্ত। কারন জাতীয় নির্বাচনে একসাথে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভিন্ন হয়ে নির্বাচন করলে তা ভালোভাবে নিবেন না অনেকেই। তাই চাইছেন স্থানীয় ভাবে সমঝোতা করে হলেও নির্বাচন করতে। এতে করে পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন ভালো থাকবে, তেমনি নির্বাচনে জয়ী হবার সম্ভাবনাও বাড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত না এলে জামায়াত এবং এনসিপি নীরবে সমঝোতা করে অনেক স্থানে নিজেদের প্রার্থী সরিয়ে দিয়ে একক প্রার্থী রাখতে পারেন। আবার ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকায় প্রথম ধাপে জামায়াত এবং এনসিপি আলাদাভাবে নির্বাচন করে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করবেন। সেখানে সফল বা ব্যর্থ হবার পর আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। জাতীয় নির্বাচনে প্রতিযোগিতার মাঠ সমান থাকলেও দলীয় সরকারের অধীনে সেই সুযোগ সমান নাও হতে পারে। তাই নিজেদের শক্তিমত্তা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন ১১ দলীয় জোট।




























-20260912144331.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :