নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টগুলো এলাকায় ছিনতাইকারীদের দখলে। বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই সিটি কর্পোরেশনের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন কর্তব্যরত পুলিশ। সবমেষ সিটি কর্পোরেশন ও জাইকা প্রজেক্টে শহীদ জিয়া হলে সয়েল টেষ্ট করার শ্রমিকেরা ছিনতাইকারী কবলে পড়েন। এছাড়া প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টগুলোতে ছিনতাইকারী কবলে পড়ছে।
চব্বিশের ডিসেম্বর শহরের ২নং রেলগেইট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় রওনাকালে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সীমান্ত। তার কাছে ল্যাপটপ, মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করে। তিনদিন পর চিকিৎসা অবস্থায় মারা যায়।
৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর ভবনের সামনে দায়িত্বরত লুৎফর রহমান নামে একজন পুলিশ সদস্য (এএসআই) ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তার মোটরসাইকেলে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে এবং তার সঙ্গে থাকা সরকারি পিস্তল ও গুলি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হলেও সমালোচনা সৃষ্টি হয় শহরময়।নিতাইগঞ্জ এলাকার এ অংশটিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন ও সরকারি দু’টি হাসপাতাল থাকলেও এটি ছিনতাই প্রবণ এলাকা। প্রায়ই পথচারীরা এখানে ছিনতাইয়ের শিকার হন।
এবার সাড়ে ছয় মাস পর আবারো ছিনতাইকারী কবলে পড়েছে জাইকা প্রজেক্টের শ্রমিকেরা। ৩০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় শহীদ জিয়া হলের নির্মাণকাজ শুরুর আগে সয়েল টেস্ট চলাকালে শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইমন নামের এক শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলাকারীরা শ্রমিকদের মুঠোফোন, টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সকালে শহীদ জিয়া হলের সয়েল টেস্টের কাজ চলাকালে কয়েকজন সেখানে এসে শ্রমিকদের হুমকি-ধমকি দেন। এরপরও শ্রমিকেরা কাজ চালিয়ে গেলে রাতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা এক শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন, টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৫০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান হাসপাতালে গিয়ে আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন।
এ সময় সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, জিয়া হলের নির্মাণকাজের জন্য সয়েল টেস্ট হচ্ছে। সেই সয়েল টেস্টের সময় একটা গ্রæপ সেখানে আক্রমণ করেছিল। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে রাত সাড়ে ৯টার পরে। জিয়া হলে যারা কাজ করছিল, সেই শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের পাঁচজনের মুঠোফোন নিয়ে গেছে এবং কুপিয়ে আহত করেছে। তাদের মালামাল নিয়ে গেছে। তাদের খুবই খারাপ অবস্থা। তারা এখন ৫০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা পুলিশের কাছে আবেদন করব, দ্রæত যেন এই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এই ছিনতাইকারীদের গ্রেগতার না করা হলে কাজটা সম্ভব হবে না। আমার মনে হয়, ষড়যন্ত্র করে জিয়া হলের কাজটাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এটা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেব না। হামলায় জড়িত সবাইকে ধরা হবে।
































আপনার মতামত লিখুন :