বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তি ও শোষণের প্রিপেইড মিটার বাতিল, বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়-বরাদ্দ ও দুর্নীতির শে^তপত্র প্রকাশসহ ৪ দফা দাবি র্শীষক গোল টেবিল বৈঠক শনিবার ৩ অক্টোবর সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনাতয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্বাফি রতন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য মঞ্জুর আলম মিঠু, বাসদ (মাহবুব) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারন সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা রিতু, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সদস্য শুভ কিবরিয়া, নারায়নগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নারায়নগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা এডঃ মাহবুবুর রহমান মাসুম, বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা শওকত হোসেন আহমেদ, নীলফামারীর বিদ্যুৎ গ্রাহক গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, বেসরকারী বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়ন পার্বতীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল লতিফ, পাবনার বিদ্যুৎ গ্রাহক রাগিব আহসান রেজভী, নারায়নগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সাজিম আহমেদ, গাইবান্ধার বিদ্যুৎ গ্রাহক গোলাম রব্বানি মুসাসহ জ¦ালানী বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গোল টেবিল বৈঠকে রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বর্তমান সরকার বিশাল অংকের বাজেট ঘাটতি পুরণে নিত্যপন্য, জ¦ালানী তেল, বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি করছে। অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে জনগণের কাঁধে কর-ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক ক্বাফি রতন বলেন, সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে একের পর এক ভারি শিল্প কল-কারখানা বিক্রির পাঁয়তারা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের পরিবর্তে বিদ্যুৎ খাতকেও বেসরকারীকরণের তৎপরতা চালাচ্ছে।
বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, শুধুমাত্র উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি হলেই জনগণের কল্যান নিহিত হয় না। এই উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং কার স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি গুরুত্বপূর্ন। যে প্রযুক্তি জনগণকে শোষণ করে সেই প্রযুক্তি আমরা চাই না। জনদূর্ভোগ এর কথা চিন্তা করে সরকারের অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করা উচিৎ।
অধ্যাপিকা মোশাহিদা রিতু বলেন, গোটা বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম-দূর্নীতির ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের বিদ্যুৎ সেবার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে লড়াইয়ের বিকল্প নেই।
জ¦ালানী বিশেষজ্ঞ শুভ কিবরিয়া বলেন, প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান রয়েছে। দুর্নীতি দমন করা না গেলে কোন উন্নয়ন পরিকল্পনাই জনগণের কাজে আসবে না।
গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা, বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তি ও দূর্নীতির প্রি-পেইড মিটার বাতিল এবং পূর্বের ডিজিটাল মিটার ফেরত, বিদ্যুতের দাম কমানো, বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয় বরাদ্দ ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ, প্রিপেইড মিটার আন্দোলনে নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ খাতকে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের চক্রান্ত বন্ধ এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।






































আপনার মতামত লিখুন :