News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফতুল্লা থানার ওসির বক্তব্যে সমালোচনা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম ফতুল্লা থানার ওসির বক্তব্যে সমালোচনা

ফতুল্লার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলমের দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্য নারায়ণগঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে দেশ জুড়েই সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। একজন বিএনপির নেতার নাম বলতে গিয়ে তার প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এমন প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। এতে করে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এর আগে এনসিপি এক নেতাকের মারধরের ঘটনায় অভিযোগ না নেওয়া নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের থানায় অবস্থান করা থেকে শুরু করে জেলা এনসিপির আহবায়ক যুবায়ের সরদার কঠোর ভাষায় আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে এনসিপি নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহবায়ক। যদি আমার একটা কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নেবো। আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইট-কল পর্যন্ত খুলে নেবো।’

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে এ হুমকি দেন তিনি।

তবে এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের ভাষ্য ছিলো ‘তখন আমি থানার ভেতরে ছিলাম। তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য আমি শুনিনি। কেউ এমন বক্তব্য দিয়ে থাকলে তা ভালো চর্চা নয়। দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে থানার ভেতরে বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন’, বলেন তিনি।

সপ্তাহ শেষ না হতে এবার খোদ থানার ওসি একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যেখানে তার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ উঠতে শুরু করেছে।

ফেসবুকে ছড়ানো ৩৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ওসি মাহবুব আলমকে বলতে শোনা যায়, “মঞ্চে উপস্থিত আছেন স্বৈরাচারী সন্ত্রাসী এমপির বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা যখন কারো ছিল না, তখন রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যে এই ফতুল্লার মাটি ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই সংগ্রামী নেতা এবং অচিরেই ঘোষণা আসবে, ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশিং-এর সম্মানিত সভাপতি জনাব শহীদুল ইসলাম টিটু।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ফতুল্লার পাগলা বাজার এলাকার যানজট নিরসনের লক্ষে গঠিত কমিটির পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুব আলম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্যদের মধ্যে প্রায় সকলেই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতা। এ অনুষ্ঠানে একজন রাজনৈতিক নেতাকে সম্বোধন করতে গিয়ে দেওয়া ওসির বক্তব্য রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, থানার একজন ওসি যদি অনুষ্ঠানে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম বলতে গিয়ে দলীয় কর্মীদের মত ওয়েলিং শুরু করে তাহলে অবশ্যই সেটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে ভবিষ্যতের জন্য ভাল কোন ইঙ্গিত নয়। ওসির এমন বক্তব্যে ওই থানায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এর এসব কিছুর দায়ভাল থানার ওসিকেই নিতে হবে। তিনি একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তার ভূমিকা নিরপেক্ষ হওয়াটাই তার চাকরিবিধি অনুযায়ী সঠিক। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতাকে ‘সংগ্রামী’ নেতা বলে সম্বোধন তার পক্ষপাতের বিষয়টিকেই সামনে আনে। এতে সমাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষ ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকে ওসির এমন বক্তব্যকে বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে প্রশাসনের লোকজনের দলীয় নেতা বা কর্মী হিসেবে আচরণের মতো করেও দেখছেন। ওই সময় যখন থেকে পুলিশ আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দিতে শুরু করেছিলো তখন থেকে সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ জমা হতে শুরু করেছিলো। যার প্রতিফলন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অনেকটাই দেখতে পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর যখন পুলিশ সেই দলীয় ট্যাগ থেকে বের হতে শুরু করেছিলো ঠিক সেই মুহূর্তে ওসি মাহবুবুল আলম এর এমন বক্তব্য নতুন করে বার্তা দিচ্ছে পুলিশ আবারো দলীয় প্রভাবে প্রভাবিত হতে শুরু করেছে।