নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও প্রধান সমন্বয়কারী লেঃ কর্নেল (অবঃ) হুমায়ুন কবীর রিপন বলেছেন, নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের ১৫ জুন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে গঠিত হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আইনসম্মত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে বিপথগামী মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করা।
আমাদের সংগঠনের চারটি ভিত্তিমূলক স্তম্ভ হলো একতা, সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব। আমাদের সাংগঠনিক লক্ষ্য "নিরাপদ পরিবেশ ও সুন্দর সমাজ"।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদকের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যম এবং তরুণ প্রজন্ম-সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমরা চাই মাদকে আক্রান্ত বা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া অধিকাংশ মানুষ, বিশেষ করে আমাদের আশপাশের তরুণ ও সমাজের সদস্যরা, মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। কেউ যদি আন্তরিকভাবে মাদক ও অপরাধের পথ পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান, নাগরিক শক্তি তাকে ঘৃণা বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে স্বাগত জানাতে চায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তাদের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। এ লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, আনসারসহ উপযোগী প্রশিক্ষণ, যুব উন্নয়ন কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরিতে কাজ করতে চাই।
এক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তর, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোনো ব্যক্তি অতীতে ভুল করেছেন বলেই আমরা তাকে চিরদিনের জন্য সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাই না। একজন মানুষ আন্তরিকভাবে সংশোধিত জীবনে ফিরতে চাইলে তাকে এক বা একাধিক বাস্তবসম্মত সুযোগ দেওয়া সামাজিক সংগঠন হিসেবে আমাদের মানবিক দায়িত্বের অংশ বলে আমরা মনে করি।
কেউ যদি নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন, অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন অথবা নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ-এর পরিচয়কে ব্যক্তিগত সুরক্ষা বা অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন-এবং তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়-তাহলে নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ কোনোভাবেই তাকে সাংগঠনিক আশ্রয় দেবে না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে তথ্য ও সাক্ষ্য দিয়ে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করা হবে।
হুমকি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আইনসম্মত পথে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমাদের পথ হবে আইনসম্মত, শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল। কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও আদালত। নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার নীতিতে বিশ্বাস করে না।
আমরা পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যান্য এলাকায় একই সামাজিক চেতনায় কাজ করতে চাই। দীর্ঘমেয়াদে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক জীবন, পরিবেশ, যানজট, পরিচ্ছন্নতা, জননিরাপত্তা, যুব উন্নয়ন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের মতো বিষয়েও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে চাই।
শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ এর উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও প্রধান সমন্বয়কারী লে: কর্নেল (অব:) হুমায়ন কবির রিপন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠেনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ এর সমন্বয়ক মোজাম্মেল হোসেন লিটন, সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন আনুসহ আরো অনেকে।






































আপনার মতামত লিখুন :