নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা যেন অপরাধের জগত। শীর্ষ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, চুরি, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের আধিপত্য ঘিরে রয়েছে। ইতোমধ্যে বুলবুল হত্যাকান্ডে রীতিমত বন্দরে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষনিক পুলিশের তৎপরতায় হত্যাকান্ডে জড়িত সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাত সহ একাধিক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে রয়েছে। প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে বন্দর ঢাকেশ^রী বাজারে সোনাচরা এলাকয় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি ঘটনা ঘটেছে। যদিও পুলিশ জড়িতদের সহ মাদক সন্ত্রাসী বøাক জনিকে গ্রেপ্তার করেছে।
বন্দর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক কর্মকাÐের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে চব্বিশের ৫ আগষ্ট ঘটনা পর বন্দর এলাকাকে অপরাধীরা নিরাপদ স্থান রূপ নিয়েছে। বন্দরের বিশেষ এলাকাগুলো সংযোগযুক্ত কুমিল্লা ও ঢাকা যোগাযোগ সহজ হওয়া কারণে বিভিন্ন অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে।
বন্দর উপজেলার ঢাকেশ্বরী বাজারের সোনাচরা এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও অস্ত্রসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং ইজিবাইক স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গ্রæপের মধ্যে দ্ব›দ্ব ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বন্দর থানা এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। উদ্ধার করা হচ্ছে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র। এরপরও অপরাধের উপজেলা হিসেবে আলোচনা রয়েছে বন্দর।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, বন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মতিউর রহমান জনি ওরফে ‘বø্যাক জনি’ ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের দেখানো স্থান থেকে মাটির নিচে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ১৬টি দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাÐ ও কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর তাদের দেখানো অনুযায়ী ঘটনাস্থলের একটি হাঁসের খামারের দক্ষিণ পাশে মাটির নিচ থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাটির ভেতরে পাঁচটি লোহার রামদা, এসএস বাটযুক্ত দুটি রামদা, লোহার বাটযুক্ত দুটি রামদা, দুটি ছোরা, দুটি দা ও তিনটি জিআই পাইপ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৬টি দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাÐ, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা জানিয়েছে।
বন্দর থানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রোধে জেলা পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ ব্যাপক বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে এবং স¤প্রতি বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও খুচরা মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
































আপনার মতামত লিখুন :