নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত এশিয়ার একসময়ের বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলটি বন্ধ করে দেয়ায় বিগত চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছিল প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ। তবে দুই দশকের ব্যবধানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। সেখানে গড়ে উঠা ইপিজেডে গত ২ দশকে বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। মাত্র ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ দিয়ে ইপিজেডটি যাত্রা করলেও গত ২ দশকে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪০.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রথম অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৬২৫ জনের। সেখানে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৭৫ হাজার ৯৫৯ জন।
জানা গেছে, এশিয়ার একসময়ের বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলটি লোকসানের কারণে ২০০২ সালের ৩০ জুন চিরতরে বন্ধ করে দেয় চার দলীয় জোট সরকার। এরপর আদমজীর ঐতিহ্যবাহী সেই শ্রম জনপদে ২০০৬ সালের মার্চে ইপিজেড স্থাপন করে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
এদিকে আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয়া নিয়ে চারদলীয় জোট সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আদমজী জুট মিল পুণরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ। যদি আদমজী জুট মিল আর চালু করেনি আওয়ামীলীগ সরকার।
এদিকে আদমজী জুট মিল বন্ধের পরে সেখানে ইপিজেড গড়ে তোলার বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে কয়েক বছরের ব্যবধানেই। একসময়ের শ্রম অধ্যুষিত জনপদ আবারো লাখো শ্রমিকের পদচারণায় কর্মমুখর হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ জোন (বেপজার) ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী পাটকলের ২৯২ দশমিক ৬২ একর জমির ওপর ২০০৬ সালে আদমজী ইপিজেড স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে এ ইপিজেডের মোট প্লটের সংখ্যা ২৭৬টি। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। বর্তমানে এ ইপিজেডে ৫৪ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। যার মধ্যে বিদেশী মালিকানাধীন ৩৬টি, চীন ও হংকংয়ের যৌথ মালিকানাধীন ৭টি ও বাংলাদেশী মালিকানাধীন ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিদেশী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২টি, যুক্তরাজ্যের ১টি, মরিশাসের ১টি, সিঙ্গাপুরের ২টি, নেদারল্যান্ডের ১টি, দক্ষিণ কোরিয়ার ২টি, জাপানের ৬টি, চীনের ৬টি, ভারতের ৫টি, শ্রীলঙ্কার ১টি, স্পেনের ১টি, জার্মানীর ২টি, ইউক্রেনের ১টি, রোমানিয়ার ১টি, কুয়েতের ১টি, বিআর ভার্জিন আইল্যান্ডের ১টি, মালয়েশিয়ার ১টি, কানাডার ১টি। হংকং ও চীনের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬টি। এসব কারখানায় গার্মেন্টস, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মোজা, জুয়েলারী, পলি ও ডায়িংসহ ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। যা শতভাগ রফতানিযাগ্য পণ্য।
আদমজী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি বছরেই বেড়েছে বিনিয়োগ। অদ্যাবধি এ ইপিজেডে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪০.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বিদেশে রফতানি হয়েছিল মাত্র ৯ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরে ইপিজেড থেকে বিদেশে রফতানি হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৪ দশকি ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৬২৫ জনের। বর্তমানে ইপিজেডে চাকরি করেছেন ৭৫ হাজার ৯৫৯ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা।
আদমজী ইপিজেডের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছরেই আমাদের ইপিজেডে দেশী বিদেশী বিনিয়োগ ও রপ্তানী বেড়েছে। বর্তমানে পৌনে ১ লাখ শ্রমিক কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। এখানে নিরাপত্তাজনিত কোন সমস্যা নেই।








































আপনার মতামত লিখুন :