News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

সাংবাদিক পেটানো সন্ত্রাসী কাসেমীর পাশে, সমালোচনায় আল আমিন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম সাংবাদিক পেটানো সন্ত্রাসী কাসেমীর পাশে, সমালোচনায় আল আমিন

এবার  ‍ভূমিদস্যু ও সাংবাদিকদের নির্মম নির্যাতন ও মারধর করা ব্যক্তিকে মনির হোসেন কাসেমীর পাশে দেখা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত এনসিপি জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন এলাকায় নির্বাচনী গণমিছিল পূর্বে মন্তব্যে এ কথা বলেন আবদুল্লাহ আল আমিন।

শুক্রবার ভূইগড়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন আবদুল্লাহ আল আমিন। গণমিছিলের পূর্বে নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চায় সাংবাদিকরা। এসময় তিনি বলেন, ‘কোন কোন প্রার্থী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের পাশে নিয়ে ভোট চাইছেন। আবার একজন আলেম সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে এমন ব্যক্তিদের পাশে নিয়ে ভোট চাচ্ছে। আমরা মনে করি কে কতটুকু জনগনকে দিবেন তা তাদের কাজকর্মে বোঝা যায়। জনগন ইনশাআল্লাহ সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। জনগন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব চায়। তারা চায় দেশের পরিবর্তন হোক। এই দেশে আর কখনও কোন সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজরা সুযোগ না পায় সেটাই জনগন চায়।’

আল আমিন আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস আছে। কারন তারা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনাই। আবার দেখছি প্রার্থিদের মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন, হুমকি ধামকি, তোরন বানানো, ক্যাম্প, ফেস্টুন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা। আমরা পরিবর্তনের বার্তা নারায়ণগঞ্জ ৪ অঞ্চলের বাসিন্দাদের দিতে চাই। এই এলাকায় রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়ন, নাগরিক অধিকারকে অবহেলা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে নাগরিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।

এর আগে, খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করা মনির হোসেন কাসেমীর পাশে দেখা যায় চিহ্নিত একজন ভূমিদস্যুকে। যিনি সাংবাদিক নির্যাতনের কারনে পরিচিত হয়েছেন দেশজুড়ে। ইতোমধ্যে তার এই অপকর্মের কারনে কৃষক দলের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলও খেটেছেন তিন।

গত বছরের ৫ নভেম্বর ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় এক নারী পরিবারকে জিম্মি করে অত্যাচার করার সংবাদ করতে যান কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। তাদের দেখেই তেড়ে আসে ভুমিদস্যু শাহাদাত হোসেন। এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের অতর্কিত মারধর করতে থাকে। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ভাঙচুর করে। কেড়ে নেয় মেমোরি কার্ড। গণমাধ্যমকর্মীদের একটি গ্যারেজে ৩ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আটক করা হয় শাহাদাতকে। ৬ নভেম্বর বিকেলে আহত জাগো নিউজের সাংবাদিক মো. আকাশ খান বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। সন্ধ্যায় আদালতে প্রেরণ করা হলে কারাগার প্রেরণের নির্দেশ দেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় বিষয়টি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে কৃষক দল শাহাদাতের পদ স্থগিত করেন। কয়েকদিন কারাভোগের পর ফের সক্রিয় হয়ে উঠেন। এবার সেই শাহাদাতকে দেখা গেছে মনির কাসেমীর সঙ্গে। সে নতুন করে শেল্টার খুজছে। যেই শেল্টার ব্যবহার করে নিজের এলাকায় ত্রাস চালাতে শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, কাসেমী বক্তব্যে সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও সেটা স্রেফ আইওয়াশ। বার বার সেটাই তিনি প্রমাণ করছেন। আর সেই বিষয়টিই আবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া সহ সত্য কথা সাহসী উচ্চারনের সাথে প্রকাশ করায় সাধারণ মানুষের সাধুবাদ পাচ্ছেন আল আমিন।