News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

আগে নৌকার শামীম ওসমানের ভোট চাইতেন এখন কাসেমীর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম আগে নৌকার শামীম ওসমানের ভোট চাইতেন এখন কাসেমীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশ জমিয়তে উলামা ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি দুর্বলতা দেখিয়ে আসছেন। তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দেখা মিলছে।

আগে যারা নারায়ণগঞ্জের গডফাডার খ্যাত শামীম ওসমানের পক্ষে ভোট চাইতেন এবার তারা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করেছেন। মনির কাসেমীর পক্ষে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। আর এভাবেই একের পর এক সভা সমাবেশে শামীম ওসমানের অনুসারী নেতাকর্মীদের দেখা মিলেছে মনির কাসেমীর পক্ষে।

সবশেষ কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য অনামিকা হক প্রিয়ার দেখা মিলছে মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে। অনামিকা বিভিন্ন প্রচারণায় গিয়ে হাজির হচ্ছেন। যিনি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহযোগি শাহ নিজামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলো। এই অনামিকা হক প্রিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শাহ নিজামের পক্ষ থেকে শামীম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতেন। সেই সাথে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

এর আগে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুকে নিজের করে নেন মনির হোসাইন কাসেমী। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রচেষ্টায় নিয়মের বাইরে গিয়ে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেয়া হয় এই সেন্টুকে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের তৎকালিন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রচারণার অভিযোগ এনে সে সময়ের ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে বহিস্কার করেছিলো বিএনপি। দলের সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ এ তথ্য তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের সাথে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয় সেন্টুর। সেই সাথে শামীম ওসমানের লোকজন তাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতোই মনে করতে থাকেন।

তার আগে বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই মনিরুল আলম সেন্টু ধীরে ধীরে আওয়ামীলীগে ঘেঁষতে থাকেন। আওয়ামী লীগের গডফাডার খ্যাত তৎকালিন এমপি শামীম ওসমানকে ‘পীর’ হিসেবেই আখ্যায়িত করে বক্তব্য রাখেন। সে সময়ে শামীম ওসমান সংসদ সদস্য হবার পর থেকে সেন্টু তার অনুগত হয়ে যান। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও শামীম ওসমানের সকল নির্দেশনা পালন করতেন এই সেন্টু। আর এই সেন্টুর নিয়ন্ত্রণে ছিলো কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। এ ছাড়াও আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ ছিলো সেন্টুর সাথে।

তারই ধারাবাহিকতায় কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড মনিরুল আলম সেন্টুর নাম ঘোষণা করেছিলেন। সেই সেন্টু আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা না দিয়েই সরাসরি বিএনপিতে চলে আসেন মনির কাসেমীর দয়ায়।

তার আগে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভোলাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। গত ২১ নভেম্বর কাশিপুর ৭নং ওয়ার্ড ‘কাশেমী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

আর এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুফতি মনির হোসেন কাসেমী বলেছিলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার গত ১৭ বছরের শাসনামলে যারা হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কেউ সরিয়ে দিতে পারবে না। এই অবস্থানে আসা সহজ ছিল না এতে ত্যাগ আছে, সংগ্রাম আছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন, শাপলা চত্বরসহ দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আলেম সমাজ সামনের সারিতে ছিল। এলাকায় মানুষ দুই ভাগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। যারা আওয়ামী লীগের নামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই। তবে যারা ভালো, তাদের ভয়ের কিছু নেই। মনির কাসেমীর এই বক্তব্যের পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার কাছে ভীড়তে থাকে। ফলে যারা একসময় শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট ছিলেন তারা এখন মনির কাসেমীর ঘনিষ্ট।