News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

নতুন এমপিদের কাছে জনতার প্রত্যাশা অনেক


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:২১ পিএম নতুন এমপিদের কাছে জনতার প্রত্যাশা অনেক

ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা নজরুল মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে চাঁদপুরের মতলব থেকে ফতুল্লা অঞ্চলে এসেছিলেন কর্মের সন্ধানে। দীর্ঘদিন চাকরি ও ব্যবসা করে ৫ শতাংশ জমি কিনেছিলেন ফতুল্লা এলাকায়। ডোবার ভেতর জমি তুলনামূলক কম মূল্যে পেয়ে যান। স্বপ্ন দেখেছিলেন একদিন সেখানেই তৈরী করবেন বাড়ি। বৃদ্ধ বয়সে বাড়ি করতে গিয়ে বিপত্তির মুখোমুখী হলেন এলাকার পাতি মাস্তানদের। যারা জমির ওয়ারিশ সহ নানাবিধ উঠকো ঝামেলা বের করে সেই জায়গা বিক্রি করে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। জায়গা বিক্রি করতে না পারলে বাড়িও তৈরী করতে দেয়া হবে না।

২০২৪ সালের আগে এমন অসংখ্য ঘটনার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। অত্র অঞ্চলে ওসমান পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্যাডার বাহিনী সাধারণ মানুষকে দুর্বল পেয়ে অত্যাচার চালিয়ে যায়। মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আগস্টে বিতাড়িত করেছিলো ওসমানদের। নজরুল মিয়ার মত বহু মানুষ অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ভূমিদস্যুদের অভয়ারন্য কমে এসেছিলো। কিন্তু নতুন করে আবারও যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ভুমিদস্যুরা। ক্ষমতার পালাবদলের পর এই ভূমিদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে কিনা সেই শঙ্কা সাধারণ মানুষের মনে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূমি অফিসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানাবিধ ত্রুটির কারনে শতভাগ ত্রুটিমুক্ত জমির কাগজ পাওয়া মালিকদের জন্য দুষ্কর। ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী এবং কিছু দলিল লেখকদের কারসাজিতে বের করা হয় ত্রুটিযুক্ত জমির কাগজ। এরপর সেগুলো স্থানীয় দালাল এবং সন্ত্রাসীদের কাছে পৌছে দেয়া হয়। যা পরবর্তীতে সেই জমির মালিককে বিরক্ত করে চলে আসে এই চক্র। এভাবে বহু জমির মালিককে অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই দালাল চক্র, অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী, দলিল লেখক, পাড়ার মাস্তান সকলেই রাজনৈতিক শেল্টারে পরিচালিত হতো। নতুন করে যা এখন বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ফের শুরু করেছে ভূমিদস্যুতা। এর একমাত্র সমাধান রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়ন বন্ধ করা। কোন ভাবে যদি জনপ্রতিনিধিরা এই চেইন ভেঙ্গে দিতে এগিয়ে আসেন। তাহলে অন্তত হাজার হাজার মানুষ অন্যায়, অত্যাচার থেকে বেঁচে যাবেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের মারপ্যাচে ফেলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে পারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কঠোর অবস্থান। জনপ্রতিনিধিরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়িদের পাশাপাশি ভুমিদস্যুদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। নবনির্বাচিত এমপিরা এগিয়ে এলেই সমাধান হয়ে যেতে পারে এই ধরনের সমস্যা। সেই সাথে চিহ্নিত প্রতারকদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিরা অবস্থান নিলে ভেঙ্গে যাবে এই চক্র।